প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিদ্যুৎহীন কেন্দ্রে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
||
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার মাসদাইরে অবস্থিত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অন্ধকারে ছিল। এতে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু কক্ষে মোমবাতি সরবরাহ করলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, এ কেন্দ্রে আদর্শ স্কুল, হরিহরপাড়া হাই স্কুল, পুলিশ লাইনস স্কুল, বেগম রোকেয়া খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয় ও এরিবস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন। অন্যান্য দিনের মতো সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষা শুরু হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়।অভিভাবক শারমীন খন্দকার বলেন, অন্ধকারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রোল নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখতে গিয়ে ভুল করেছে এবং কাটাছেঁড়া করতে হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।আরেক অভিভাবক হাফিজুল ইসলাম জানান, কিছু কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলেও অনেক কক্ষে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় শিক্ষার্থীরা অন্ধকারেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।হামিদুর রহমান নামের এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কিছু কক্ষে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও সব কক্ষে সমানভাবে সময় বাড়ানো হয়নি। এতে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, ৪০ মিনিট পরীক্ষা বন্ধ ছিল—এ তথ্য সঠিক নয়। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু শিক্ষার্থী দেরিতে আসে এবং গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাময়িক বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দেয়।তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজের উপস্থিতিতে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং শেষে ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল না।এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি জানা আছে। তবে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই। কেন্দ্র সচিব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ