প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
আওয়ামী লীগ নেতার জায়গায় পশুর হাট বসানো নিয়ে বন্দরে ক্ষো'ভ
||
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী জহিরুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জায়গাটি হাটের জন্য অনুপযুক্ত দাবি করে এর ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘কাজী জহিরের খালি জায়গা’ উল্লেখ করে গত ৭ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, জায়গাটি তিনটি আবাসিক এলাকার মাঝখানে অবস্থিত এবং সেখানে পশুর হাট বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। পাশেই রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারের ব্যস্ত ঘাট ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে হাট বসলে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আমিন আবাসিক, র্যালি আবাসিক ও লেজারার্স কলোনির বাসিন্দারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের দাবি, হাট বসলে সড়কও দখল হয়ে যাবে এবং স্কুলগামী শিশু ও সাধারণ মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হবে।র্যালি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকায় হাট বসানোর মতো জায়গা নাই। অনুমতি দিলে রাস্তার মধ্যেই গরু রাখতে হবে। এতে প্রতিদিনের চলাচলে চরম সমস্যা হবে।”আরেক বাসিন্দা বলেন, “নদীর পাড়ে সরকার গাছ লাগাইছে, হাঁটার রাস্তা বানাইছে। সেখানে গরুর হাট বসলে পরিবেশ ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি হবে। এই এলাকা অনেক ঘনবসতিপূর্ণ, তাই এলাকাবাসী আগেও হাট বসাতে দেয়নি।”জানা গেছে, জায়গাটির মালিক কাজী জহিরুল ইসলাম আগে কদমরসুল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে সেখানে তার একটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, হাটের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, “৭-৮ বছর আগে এখানে হাট হয়েছিল। এরপর আর হয়নি। এখন শুনছি স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি হাট বসাতে চায়। তবে এই হাটের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”এদিকে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর কুতুবুল আলম জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাট নিয়ে অভিযোগ এসেছে এবং আগামী রোববার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “দরপত্র আহ্বান মানেই সেখানে হাট বসবে, এমন নয়। সব অভিযোগ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”এ বিষয়ে নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ