প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ফিরছেন আইভী, কাঁপছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠ
||
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার কারামুক্তি কেবল একজন নেতার মুক্তির ঘটনা নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইভীর সক্রিয়তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য করতে পারে।গত বছরের মে মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে ভোররাতে নগরীর দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিনি শান্তিপূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যান।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী সবসময়ই একটি স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, জনসংযোগ এবং নগর উন্নয়নে ভূমিকার কারণে তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরেও আলাদা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখায় তার একটি শক্তিশালী ভোটভিত্তিও গড়ে উঠেছে।পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও স্থানীয় নির্বাচনে সাফল্য অর্জনের অভিজ্ঞতা আইভীর রাজনৈতিক সক্ষমতার বড় প্রমাণ। ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও দৃঢ় করেন।বর্তমানে জেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের তুলনায় দুর্বল বলে মনে করা হলেও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আইভীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও প্রভাব এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ফলে তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে পারে।অন্যদিকে, তার মুক্তির সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যেও আশাবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, দীর্ঘ বিরতির পর আইভী মাঠের রাজনীতিতে ফিরলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হবে এবং সাংগঠনিক তৎপরতাও বাড়বে। একই সঙ্গে তার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান ও কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করতে পারে।সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে কারামুক্তির পর আইভীর রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ কৌশলের ওপর। তাই তাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে এখন নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ ও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ