প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বো'মা হামলার ২৫ বছর, ক্ষমতার বদলে থমকে আছে বিচার
||
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলেও মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে।২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে চাষাঢ়ায় দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতির মধ্যেই পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণে রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ মোট ২০ জন নিহত হন এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা আর ঘোষণা হয়নি। কারণ, তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পূরক অভিযোগপত্রের পূর্ণাঙ্গ মূল কপি আদালতে দাখিল না করায় তাকে তলব করা হয়েছে এবং পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঘটনার পর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। সে সময় বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, শওকত হাশেম শকুসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। তবে ২০০৩ সালে তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, এজাহারে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের সময়ে নিহত এক চা বিক্রেতার ছেলে আবুল কালামের করা পাল্টা মামলায় শামীম ওসমান, নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমানসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হলেও পরে উচ্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে আদালতের নির্দেশে সিআইডি পুনরায় তদন্ত শুরু করে। ২০১৩ সালে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ছয়জনকে অভিযুক্ত এবং ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন, শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল এবং বিএনপি নেতা শওকত হাশেম শকুর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।তবে ২০২০ সালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তৎকালীন আহতদের একজন শামীম ওসমান অভিযোগপত্রের সমালোচনা করেন। তার দাবি ছিল, চার্জশিটে এমন অনেকের নাম রয়েছে যাদের সম্পৃক্ততা নেই, আবার প্রকৃত অপরাধীদের নাম বাদ পড়েছে। একইসঙ্গে তিনি তৈমুর আলম খন্দকার ও শওকত হাশেম শকুর সম্পৃক্ততা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন।হামলায় নিহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা সাইদুল হাসান বাপ্পী, তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আকতার হোসেন, সংগীতশিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু ও নজরুল ইসলাম বাচ্চু, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, এবিএম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পলি বেগম, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, চা বিক্রেতা হালিমা বেগমসহ মোট ২০ জন ছিলেন।রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলোতে এ পর্যন্ত ৩৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নতুন করে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ