প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
মুসলিমনগরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রনি নামের এক যুবকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি মুসলিমনগর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।স্থানীয়রা জানায়, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন রনি। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তার শ্বশুর, এনায়েতনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিল্লালের প্রভাব ব্যবহার করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি তার চাচাতো ভাই, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির সরদারের প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। রনি ঐ এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলী সরদারের ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রনির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। ওই গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, মারামারি, মাদক ব্যবসা পরিচালনা, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান বলেও দাবি করেন তারা।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুসলিমনগরের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজন মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, এলাকার উঠতি বয়সী অনেক কিশোর অপরাধচক্রের প্রভাবে বিপথে চলে যেতে পারে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে। ওই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া রনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন যুবক এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, রনির বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মাদক সংক্রান্ত মামলায় তিনি দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, মুসলিমনগর এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ