প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
দেওভোগ মাদ্রাসার ১ কোটি টাকা কোথায়? স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেওভোগ মাদ্রাসার ১ কোটি টাকা কোথায়? স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও রহস্য!নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দেওভোগ মাদ্রাসার অর্থ তছরুপের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিগত কমিটির রেখে যাওয়া মাদ্রাসার উদ্বৃত্ত তহবিলের প্রায় ১ কোটি টাকা বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকন ও তাঁর সহযোগীরা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন কাজের নামে-বেনামে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ: অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ খোকন নিজেই মাদ্রাসা ও মসজিদের নির্মাণকাজের প্রধান সরবরাহকারী (সাপ্লায়ার) হিসেবে কাজ করছেন। অথচ, নিয়মানুযায়ী কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি কমিটির পদে থেকে নিজেই কাজের সরবরাহকারী হতে পারেন না। স্থানীয়রা জানান, তিনি কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে কাজ পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের জন্য ব্যবহৃত ইট, বালু, রড, সিমেন্ট ও পাথরের বিল এবং ভাউচার তৈরিতেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।অবাস্তব বিল ও ভাউচারের কারসাজি: অভিযোগ অনুযায়ী, মসজিদের কাজের জন্য জমা দেওয়া পাথরের বিলে চরম জালিয়াতি করা হয়েছে। ভাউচারে প্রতিটি গাড়িতে ৭০০ ফুটেরও বেশি পাথর পরিবহনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞ পাথর ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, দেওভোগের যে রাস্তায় পাথরবাহী ট্রাক চলাচল করে, সেখানে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কখনোই এত পরিমাণ পাথর বহন করা সম্ভব নয়। এমনকি বাংলাদেশে এমন কোনো গাড়ি নেই, যা এই পরিমাণ পাথর পরিবহন করতে পারে। এমন অবাস্তব ও কাল্পনিক ভাউচার দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।শিক্ষক ও অনুসারীদের যোগসাজশের অভিযোগ: অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের পেছনে হেদায়েতুল্লাহ খোকনের নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। বিশেষ করে মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহমানসহ তাঁর অনুসারীদের যোগসাজশে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ সম্পাদক কোনো মালামাল বুঝে পাওয়ার পর তা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর না করে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফলে সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানতে পারেননি।হিসাবের অপেক্ষায় এলাকাবাসী: মাদ্রাসার দান-খয়রাত এবং মাদ্রাসা মার্কেটের ভাড়ার টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব আজও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক। মসজিদ ও মাদ্রাসার পবিত্রতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই অর্থের প্রতিটি খাতের বিস্তারিত হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ