প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, অভিযোগ অস্বীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চার সদস্য। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।অভিযোগকারী সদস্যরা হলেন—ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ, মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, আলমগীর হোসেন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নুপুর আক্তার।অভিযোগে তারা বলেন, পিংকি আক্তারের আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রশিদ। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর পরিষদের তহবিলে থাকা অর্থ ও বিভিন্ন কাজের কোনো হিসাব তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একাধিকবার হিসাব চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।তাদের আরও অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের অর্থের কোনো তথ্য বা হিসাব সদস্যদের জানানো হয়নি। ওই অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে প্রায় তিন মাস দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ইস্টিমেট (বিবরণ) সদস্যদের দেওয়া হয়নি। ফলে তারা নিজ নিজ এলাকার কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নুপুর আক্তারের দাবি, তিনি একাধিকবার ইস্টিমেট চাইলেও তা দেওয়া হয়নি; বরং তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।চার সদস্য আরও অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের মা ও গ্রাম পুলিশ জোসনা, পরিষদের সচিব এবং উদ্যোক্তার সহযোগিতায় তাদের বসার চেয়ার সরিয়ে ফেলা হয়, যাতে তারা পরিষদে বসতে না পারেন।তাদের ভাষ্য, ১ শতাংশ প্রকল্পের কাজসহ উপজেলা থেকে আসা বিভিন্ন বরাদ্দের বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়নি এবং বরাদ্দ সমভাবে বণ্টনও করা হয়নি। অনেক প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, পরিষদের সচিব তারেক আজিজের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেও কোনো তথ্য দেওয়া হয় না। নিয়মিত মাসিক সভাসহ কোনো সভায় তাদের ডাকা হয় না এবং নতুন কোনো বরাদ্দ এলেও তা সদস্যদের জানানো হয় না।অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার, সচিব তারেক আজিজ এবং অফিস সহকারী টিটু একসঙ্গে জড়িত। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে পিংকি আক্তার নিজের বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র স্থাপন করেছেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদকে আবার অচল ও অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ এসব অভিযোগ তুলছে। আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করায় এখন চেয়ারম্যানের চেয়ার দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”হিসাব সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “পরিষদের সব হিসাব সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী তিন-চারজন সদস্য গত কয়েক মাস পরিষদে আসেননি। তাই তারা হিসাব সম্পর্কে অবগত নন। বাইরে বসে সমালোচনা করছেন।”হোল্ডিং ট্যাক্সের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। আদায়কৃত অর্থ নির্ধারিত নিয়মে পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। বিষয়টি পরিষদের সব সদস্যই জানেন।”ইস্টিমেট না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তার দাবি, “সকল সদস্যকেই ইস্টিমেট দেওয়া হয়েছে। নুপুর আক্তার আমার কাছে কোনো ইস্টিমেট চাননি।”টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে পিংকি আক্তার বলেন, “কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে যে শাস্তি হবে আমি তা মেনে নেব।”১ শতাংশ প্রকল্প ও অন্যান্য বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব কাজ ও বরাদ্দ সদস্যদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়েছে। আমাকে বিতর্কিত করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।”নিজের আর্থিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার দুটি বিউটি পার্লার ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমার ব্যক্তিগত সব আয় সেখান থেকেই আসে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ