প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
বাবারা এমপি, ছেলেরা ‘রাজনৈতিক সচিব’; আলোচনায় দুই উত্তরসূরি
||
নারায়ণগঞ্জে দুই এমপির রাজনৈতিক সচিব এবার তাদেরই ছেলেনারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনে সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের সন্তানরা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী এলাকার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ছেলেদের এ দায়িত্ব দিয়েছেন।দুই সংসদ সদস্যের দেওয়া নিয়োগপত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সমন্বয় করবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।তবে একই সময়ে দুই সংসদ সদস্যের সন্তানদের এমন দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি সংসদ সদস্যদের কাজের সমন্বয় সহজ করার উদ্যোগ হলেও এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে স্থানীয় রাজনীতিতে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে।সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) নিয়োগের বিষয়টি নতুন নয়। তবে রাজনৈতিক সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমন্বয়কের দায়িত্ব সরাসরি সন্তানদের দেওয়ার ঘটনা নারায়ণগঞ্জে খুব বেশি দেখা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এবারই একই সময়ে জেলার দুটি আসনে এমন নিয়োগের ঘটনা সামনে এসেছে।সাধারণত একজন রাজনৈতিক সচিব সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সমন্বয়ে সহযোগিতা করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের মতো কাজেও তিনি ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়েও সংসদ সদস্যের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ছেলে আশাত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন দলের প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। নির্বাচনের পর মার্চ মাসে তার ছেলে আবুল কাউসার আশাকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।আবুল কাউসার আশা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে বাবার পরিচয়ের বাইরে তার নিজস্ব সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাও রয়েছে।চারবারের সংসদ সদস্য আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয়। শারীরিক কারণে সবসময় সরকারি দপ্তর কিংবা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি উপস্থিত থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দাপ্তরিক বিষয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ সহজ করতে ছেলেকে রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।তবে আশার আগে থেকেই সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নতুন দায়িত্ব—দুটিকে মিলিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে। অনেকের ধারণা, বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের রাজনীতিতে আশার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।মান্নানের রাজনৈতিক সচিব সজিবঅন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান গত ৯ আগস্ট তার ছেলে খাইরুল ইসলাম সজিবকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।খাইরুল ইসলাম সজিব এর আগে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে সংসদ সদস্যকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।আজহারুল ইসলাম মান্নান সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সজিবের ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে যুবদলের রাজনীতিতে তার পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততা থাকায় রাজনৈতিক সচিবের নতুন দায়িত্ব তার সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একই সময়ে দুই সংসদ সদস্যের সন্তান রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছে। কারণ, দুই নিয়োগপ্রাপ্তই শুধু সংসদ সদস্যের সন্তান নন; তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।এ কারণে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই নিয়োগ কি কেবল সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য, নাকি এর মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে? সময়ের সঙ্গে এ প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ