প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
বুলবুল হত্যা মামলায় সিফাতসহ ৭ জন ১০ দিনের রিমান্ডে
||
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ সাতজনকে ১০ দিন করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার চার নারী আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।আদালত সূত্রে জানা গেছে, বন্দর থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির প্রত্যেকের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে সাতজন পুরুষ আসামির ১০ দিন এবং চার নারী আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—মামলার প্রধান অভিযুক্ত বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদ এলাকার সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশালের ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯) এবং চৌধুরীবাড়ি এলাকার সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)।অন্যদিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া চার নারী হলেন—সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মোসা. মিনারা (৩৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন (৪০)।গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার ঘটনায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০)। ঘটনার পরপরই পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।পরদিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, নিহত বুলবুল পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তার অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে গত ২০ আগস্ট তিনি বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় শেখ সিফাত ও তার কয়েকজন সহযোগীকে আসামি করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলা দায়েরের পর থেকে বুলবুলকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ আগের ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি আরও জানান, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তারা একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। বর্তমানে হত্যা মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ