প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ ১৫ বছর পর সিএনজিচালক হত্যা মামলার রায়, আজমেরী ওসমানের সহযোগীর ফাঁসি
||
নারায়ণগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. জামাল হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অপর একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।রায়ে নগরীর আল্লামা ইকবাল রোড এলাকার কবির হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জুকে (৪৪) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই মামলায় সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকার শরিফ আহম্মেদের ছেলে আকাশ আহম্মেদকে (৩৭) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অপরদিকে মামলার দুই আসামি আরাফাত খান ওরফে শান্ত (৩৭) এবং মো. খোকন মিয়া (৩৮) অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আজিজুল হক জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আজমেরী ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মামলার চার আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে তিনি জানান।পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।আজমেরী ওসমান প্রয়াত জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে। তার চাচা একেএম শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবং অপর চাচা একেএম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন।পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমান ও তার দুই চাচার নাম উঠে আসে। জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও আজমেরী ওসমান অভিযুক্ত এবং তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলেন চাঁদপুরের মতলব এলাকার বাসিন্দা মো. জামাল (৪০)। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে জামালের স্বজনরা র্যাবের কাছে গেলে তদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জুলাই তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে র্যাব এবং এ ঘটনায় খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জু, আকাশ আহম্মেদ ও আরাফাত খান ওরফে শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর, ১৮ জুলাই নগরীর আমলাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের ডাস্টবিন থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম সদর মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।ঘটনার প্রায় চার মাস পর, ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, মামলার চার অভিযুক্তই বর্তমানে পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ