প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস
||
নারায়ণগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসপবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে জশনে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর রেলগেট ও চাষাঢ়া হয়ে আবার নিতাইগঞ্জে ফিরে আসে।শোভাযাত্রা চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগরীর প্রধান সড়কগুলো। ধর্মীয় আবহে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে নিয়মিতভাবে জশনে জুলুসের আয়োজন হয়ে আসছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের ধারাবাহিকতায় এবারও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি পালিত হয়।ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মুর্শিদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদীর নেতৃত্বে এবারও সেই ঐতিহ্য অব্যাহত রাখা হয়েছে।তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শ অনুসরণের বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। বিভিন্ন মত ও শিক্ষাধারার মানুষকে পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ আয়োজনে বিভিন্ন আলেম, কওমি ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন বলে জানান আয়োজকরা।অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বক্তব্য দেন। তিনি ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে মুসলমানদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঈমান রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে তার প্রতিবাদ করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নবীজি (সা.)-এর আদর্শের বাইরে কোনো নির্দেশনা বা ফতোয়া গ্রহণ করা হবে না।জশনে জুলুস শেষে নিতাইগঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মুসলিম সমাজে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস ও শোভাযাত্রার কর্মসূচি শেষ হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ