প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দাহ নয়, শুভ ওরফে বিল্লালের লাশ ইসলামী রীতিতে দাফনের নির্দেশ হাই কোর্টের
||
শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতার অবসান, বিল্লালের লাশ দাফনের নির্দেশ হাই কোর্টেরনারায়ণগঞ্জ শহরে হত্যাকাণ্ডের শিকার শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে কয়েক দিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। হাই কোর্ট তার মরদেহ ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মরদেহটি তার আইনানুগ স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।বিল্লালের মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্য দাহ করা হবে নাকি ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। তার সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি জানান। অন্যদিকে বিল্লালের স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন দাবি করেন, তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং বিল্লালও মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করতেন। এ পরিস্থিতিতে মরদেহের দাফন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।পরিবারের বিরোধের কারণে বিল্লালের মরদেহ কয়েক দিন পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়। পরে ইসলামী রীতি অনুযায়ী স্বামীর দাফনের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী জ্যোতি।রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর শুভ ওরফে বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার পর মামলা দায়ের ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে জন্মগতভাবে সনাতন ধর্মের অনুসারী শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস এবং ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর শুভর নাম রাখা হয় বিল্লাল। পরে তিনি মাদ্রাসায়ও পড়াশোনা করেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে বিল্লাল ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে বিয়ে করেন। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।স্বামীর মৃত্যুর পর ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনের অনুমতি চেয়ে প্রথমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন জ্যোতি। ওই আবেদনের সুরাহা না হওয়ায় পরে তিনি হাই কোর্টে রিট করেন। আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রাখা হয়।রিটে আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদি করা হয়। মরদেহটি সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবার কাছে হস্তান্তর না করে আইনানুগ স্ত্রী হিসেবে জ্যোতির কাছে দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ধর্মীয় বিধানের প্রসঙ্গ তুলে আদালতে বক্তব্য দেন। এ সময় বিল্লালের ভাই সজীবও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তিনি ও তার ভাই দুজনেই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। শুনানিকালে তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করে শোনান।শুনানি শেষে হাই কোর্ট বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ