প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রেজিস্ট্রেশন অফিসের সামনে মাইক্রোস্ট্যান্ড হওয়ায় পার্কিং সংকটে স্থানীয়রা
||
নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রেশন অফিস সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল লেখকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ। পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও নতুন করে মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগকে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর আশঙ্কা করছেন তারা।পার্কিং নেই, সেখানে মাইক্রোস্ট্যান্ড কেন?নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রেশন অফিসে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ জমি রেজিস্ট্রেশনসহ নানা কাজে আসেন। তাদের সঙ্গে থাকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেবাগ্রহীতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল লেখকদের।এমন পরিস্থিতিতে রেজিস্ট্রেশন অফিসের সামনে নতুন করে মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।তাদের বক্তব্য, যেখানে অফিসে আসা মানুষের গাড়ি রাখার জায়গা নেই, সেখানে নতুন করে মাইক্রোস্ট্যান্ড করা হলে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। এতে যানজট, শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।রেজিস্ট্রেশন অফিসকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতার সমাগম ঘটে। স্থানীয় দলিল লেখকদের অভিযোগ, এমনিতেই পার্কিং সংকট ও যানবাহনের চাপের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।নতুন মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপন করা হলে অফিস এলাকার স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।সরকারি অফিস ও আবাসিক এলাকার পাশে স্ট্যান্ড কতটা যুক্তিসঙ্গত?নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রেশন অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। জমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন সম্পদ-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন এখানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।এর আশপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মাদ্রাসা। ফলে এমন জনবহুল এলাকায় মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপনের আগে যানজট, নিরাপত্তা, শব্দদূষণ ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।তাদের আশঙ্কা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন ও মানুষের অতিরিক্ত সমাগম তৈরি হলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।মাইক্রোস্ট্যান্ড নয়, পার্কিং ও পার্ক চান স্থানীয়রাস্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল লেখকদের মতে, জায়গাটিকে পরিকল্পিতভাবে পার্কিং স্পেসের পাশাপাশি একটি সুন্দর পার্ক বা উন্মুক্ত জনবান্ধব স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হলে এলাকাবাসী ও রেজিস্ট্রেশন অফিসে আসা মানুষের জন্য বেশি উপকারী হবে।এতে একদিকে গাড়ি রাখার সমস্যার সমাধান হবে, অন্যদিকে যানজট কমার পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশও উন্নত হবে বলে মনে করছেন তারা।স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল লেখকদের প্রশ্ন, “রেজিস্ট্রেশন অফিসে আসা মানুষের গাড়ি রাখার জায়গা নেই, সেখানে নতুন করে মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপন কতটা জনবান্ধব সিদ্ধান্ত?”তাদের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বাসিন্দা, দলিল লেখক এবং রেজিস্ট্রেশন অফিসে নিয়মিত সেবা নিতে আসা মানুষের মতামত বিবেচনা করা হোক।মাইক্রোস্ট্যান্ডের পরিবর্তে পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা ও একটি সুন্দর পার্ক নির্মাণ করা হলে তা বর্তমান সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জনস্বার্থে মাইক্রোস্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দলিল লেখকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ