প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের গ্রাম-মহল্লায় জমে উঠেছে ভোটের হিসাব
||
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের গ্রামীণ রাজনীতিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে তৎপরতা। জেলার পাঁচ উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রাম থেকে হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা কিংবা স্থানীয় চায়ের আড্ডা—সবখানেই এখন সম্ভাব্য প্রার্থী, ভোটের হিসাব ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাঠে থাকা নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এমন আলোচনা রয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং তার আগে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি তফসিল ঘোষণার পরই নিশ্চিত হবে।এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগের নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকবে। ফলে দলীয় মনোনয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক অবস্থান, নিজস্ব কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।বদলে যাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণসাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব নারায়ণগঞ্জের ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিতেও পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থান আগের মতো নেই। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।তবে দলীয় পদে সরাসরি যুক্ত না থাকা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়েও আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এমন কিছু ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। অবশ্য তাদের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সেটি নির্ভর করবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, স্থানীয় পরিস্থিতি ও নির্বাচনী বাস্তবতার ওপর।এদিকে ইউনিয়নগুলোর প্রশাসনিক সীমানা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় নেওয়ার সুপারিশ করেছে জেলা প্রশাসন। ফলে এসব ইউনিয়নে ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে কি না কিংবা সীমানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নির্বাচনী কাঠামোয় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরানির্বাচনের সম্ভাবনা সামনে আসতেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার কাজে নেমেছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, ঘরোয়া বৈঠক, উঠান বৈঠক, সামাজিক ও স্থানীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা।কেউ দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সামনে আনছেন, আবার কেউ ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী।দলীয় প্রতীক না থাকায় নির্বাচনে ব্যক্তিগত বলয়ের গুরুত্ব বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর নিজস্ব কর্মী-সমর্থক, পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।অর্থনৈতিক প্রস্তুতিও আলোচনায়নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছে। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে কে কতটা আর্থিকভাবে প্রস্তুত এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার সক্ষমতা রাখেন—সেটিও সম্ভাব্য প্রার্থীদের হিসাবের মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।তবে অর্থের পাশাপাশি নিজস্ব জনবল ও স্থানীয় সাংগঠনিক যোগাযোগকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকেই এখন থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজেদের অনুসারী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছেসম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি অংশ স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার মাধ্যমে অনেকে নিজেদের রাজনৈতিক যোগাযোগ শক্ত করার চেষ্টা করছেন।নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে এনসিপির প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয় হচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের ঘিরে নতুন কর্মী-সমর্থক বলয় তৈরির চেষ্টাও চলছে।তফসিলের পর বাড়তে পারে প্রতিযোগিতাবর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বড় একটি অংশ মূলত নিজেদের শক্তি যাচাই ও মাঠ গোছানোর পর্যায়ে রয়েছেন। কে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হবেন, কার সঙ্গে সমঝোতা হবে, কে কার সমর্থন পাবেন এবং নির্বাচনী মাঠে কার অবস্থান কতটা শক্ত—এসব বিষয় নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ।তফসিল ঘোষণা হলে এই তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। তখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই প্রকাশ্যে প্রচার, কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক অবস্থান, কর্মী-সমর্থনের শক্তি ও স্থানীয় যোগাযোগ এবার নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী সমীকরণ স্পষ্ট হবে তফসিল ঘোষণার পর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ