প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ট্রাইব্যুনালে শামীম, অয়ন ও আজমেরীর বিচার চাইলেন দুই সাক্ষী
||
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ দুই সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বিচার দাবিজুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন হাসান গাজী ও আল আমিন। জবানবন্দি শেষে তারা সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মামলার সব আসামির বিচার দাবি করেন।রোববার (৪ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসান গাজী ও আল আমিন যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। মামলায় শামীম ওসমানসহ মোট ১২ জন আসামি রয়েছেন।জবানবন্দিতে ৩৯ বছর বয়সী হাসান গাজী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, ভিকি, ডিস বাবু, শাহ নিজাম, টিটু, সাজনু ও শুভ্রসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের মিছিল লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছোড়েন। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।হাসান গাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় একটি গুলি তার বাঁ হাঁটুতে লাগে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা নিলেও তার পায়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে আসেনি বলে ট্রাইব্যুনালে জানান তিনি।চিকিৎসাধীন থাকার সময় হাসপাতালের আশপাশে শামীম ওসমানের অনুসারীরা অবস্থান করছিলেন বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন হাসান গাজী। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি। এর ফলে যথাযথ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান এই সাক্ষী।অন্যদিকে, মামলার ১২তম সাক্ষী আল আমিনের বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। জবানবন্দিতে তিনি জানান, আগে অটোরিকশা চালালেও বর্তমানে তিনি বেকার। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।আল আমিনের দাবি, আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। পরে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে মামলার অন্য আসামিরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন। ওই সময় তার পায়ের গোড়ালির ওপর গুলি লাগে। চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানান।জবানবন্দিতে দুই সাক্ষীই ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের সময় আরও অনেক ছাত্র-জনতা হতাহত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শামীম ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট সব আসামির বিচার দাবি করেন।নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ