প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
চাষাঢ়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ২২ স্বেচ্ছাসেবক, পেলেন বডি ক্যামেরা
||
নারায়ণগঞ্জ নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে ট্রাফিক পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এক মাসের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে কাজ করবেন ২২ জন স্বেচ্ছাসেবক।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, মডেল গ্রুপ এবং ‘উই আর ভলান্টিয়ার’-এর যৌথ উদ্যোগে এসব স্বেচ্ছাসেবককে মাঠে নামানো হয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) নগরীর চাষাঢ়া মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে দায়িত্ব পালনের জন্য জ্যাকেট ও বডি ক্যামেরা বিতরণ করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা এবং অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ শহরকে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থার মধ্যে আনতে সময় প্রয়োজন। যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নগরীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হকার, অটোরিকশা, রিকশাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। যানজট নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে কর্মী নিয়োগ করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি জানান, অটোরিকশা ও রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ব্যবস্থা ও পরিচয়পত্রের আওতায় যানবাহন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নগরকে অপরাধমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল জানান, প্রাথমিকভাবে ২২ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলকে এক মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতন বাবদ প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এ ব্যয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে বহন করছে।তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের আহ্বানে এবং নগরবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে ব্যবসায়ী সমাজ অতীতেও পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান চাষাঢ়া মোড়কে নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, চাষাঢ়া মোড় নারায়ণগঞ্জ শহরের ‘হার্ট’। এ মোড়কে যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব হলে নগরবাসীর মূল্যবান কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং পুরো শহরের যান চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।পুলিশ সুপার বলেন, চাষাঢ়া মোড়ের আশপাশে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং হকার বসার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে প্রথম ধাপে চাষাঢ়া থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণের এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নগরীর অন্যান্য যানজটপ্রবণ এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সোহেল আক্তার সোহান এবং ‘উই আর ভলান্টিয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুর রহমান তনুসহ সংশ্লিষ্টরা।আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবকদের এই কার্যক্রম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ