প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ফতুল্লা পাইলটকে ‘ব্র্যান্ড’ করার প্রত্যাশা
||
ফলাফলে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন অতিথিরা।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ফলাফল ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন।তিনি জানান, গতবার টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর পর বিদ্যালয়ের পাসের হার আগের প্রায় ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭৯ শতাংশে উন্নীত হয়। ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, ফলাফলের এই পরিবর্তন ওই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছে।ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউএনও। তিনি বলেন, বর্তমান সভাপতি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সুন্দর ও আধুনিকভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, ফতুল্লা পাইলট একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব একজন শিক্ষানুরাগী ও গতিশীল ব্যক্তির হাতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ফতুল্লা পাইলট একটি ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “আজ এখানে যে ৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছ, তোমরা শুধু নিজেদের সম্মানিত করনি, আমাদেরও সম্মানিত করেছ। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাকে সম্মানিত করেছ। একই সঙ্গে তোমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছ।”শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আগামী দিনেও তারা যেন ফতুল্লা পাইলটের সুনাম আরও উজ্জ্বল করে। একদিন এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই কেউ নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে এসে নিজের সাফল্যের গল্প বলবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই সেই যোগ্যতা ও প্রতিভা রয়েছে।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন তিনি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এতিম শিশু ও বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে আর্থিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, পরিচিত কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার কারণে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক কিংবা অভিভাবক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা হবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত রুবেল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরাইয়া আশরাফী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফরোজা, ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য তুষার আহম্মেদ মিঠু, শিক্ষক প্রতিনিধি মো. আবু সাইদ, সিনিয়র শিক্ষক শাহিদা আক্তার, বাহাদুর আলী আকন্দ ও নুরুল কবিরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ