প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে ২৪০ পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তা, প্রস্তুতি পরিদর্শনে ডিসি-এসপি
||
নারায়ণগঞ্জে ২৪০ পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তা, প্রস্তুতি পরিদর্শনে ডিসি-এসপিশারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে জেলার ২৪০টি মণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এরই মধ্যে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের বলদেব ঝিউর আখড়া, ভীষণ ভরা রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তাঁরা। এ সময় প্রতিমা তৈরির অগ্রগতি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ২৪০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি, গুজব রোধে মনিটরিংপরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইতিমধ্যে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে যাতায়াতের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে এসে আরতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একটি আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজকদের দীর্ঘদিন পরিশ্রম করতে হয়। অন্যদিকে, অনেক দর্শনার্থী সারা বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন দেখার অপেক্ষায় থাকেন। তাই দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আয়োজকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেক সময় পুরোনো ঘটনা কিংবা এক এলাকার ছবি ও ভিডিও অন্য এলাকার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই কোনো তথ্য বা ছবি শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।২৪০ মণ্ডপে পুলিশ-আনসার, থাকবে মোবাইল টিম ও গোয়েন্দা নজরদারিপুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, দুর্গাপূজাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় পুলিশের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও গুজব ছড়িয়ে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা না যায়, সে জন্য পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। সবার সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ