প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
আইভীর আইনজীবী কাজলসহ গ্রেপ্তার ৩
||
আইভীর আইনজীবী কাজলসহ গ্রেপ্তার ৩, স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার সহকর্মীদেরনারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে কোনো স্লোগান দেননি বলে দাবি করেছেন তাঁদের সহকর্মীরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোড ও দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকায় নিজ নিজ বাসা থেকে পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান তুষার এবং কাজলের ভাই আতিকুল ইসলাম। মাহবুবুর রহমান তুষার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে যান। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এজাহারে তাঁদের নাম না থাকলেও তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।তবে গ্রেপ্তার হওয়া কাজল ও তুষারের সহকর্মী আইনজীবী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি, তাঁরা আগের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাতে মামলার নথিপত্র ছিল এবং তাঁরা কোনো স্লোগান দেননি।জিয়াউল ইসলাম কাজল নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারসহ শহরের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও তিনি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে তাঁদের দাবি।নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি এ গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কাজল দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সাংস্কৃতিক জোট ছাত্র-জনতার পক্ষে কর্মসূচি পালন করলেও কাজল তখন সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন। পুলিশের দেওয়া গ্রেপ্তারের ব্যাখ্যা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, কারও আগের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং আইনজীবী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের দাবির মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তবে আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ও মামলায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ