প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
মামুন ডা/কাত গ্রে/প্তার: বেরিয়ে এলো সাবেক কাউন্সিলর জোহার আঁতাত ও পৃষ্ঠপোষকতার চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ত্রাস সৃষ্টি করা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মামুনসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা ধরা পড়লেও দৃশ্যপটের বাইরে রয়ে গেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া দেওয়া প্রভাবশালী নেপথ্য নায়কেরা।এতে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধের শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে ডাকাতদের পাশাপাশি নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদেরও অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানা পুলিশ শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর ৪টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাচড়াবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহার বাড়ির সামনে রফিকুল ইসলামের বালুর মাঠ থেকে ডাকাত সর্দার মামুন এবং তার দুই সহযোগী মোক্তার হোসেন (৫০) ও রিয়াদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর একই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ মামুনের প্রধান সহযোগী ‘চুক্কা ডাকাত’কে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাসিক ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মামুন ডাকাতের নেত...ত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি দুর্ধর্ষ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ চক্রের সদস্য স্বপন, রিপন, আজিজুল, সুমন ও ইয়ানবীসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত অস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল। ডাকাতির মালামাল কেনাবেচায় গড়ে ওঠে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট।এলাকাবাসীর অভিযোগ, চক্রটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করতেন সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা। ডাকাতির স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল সরাসরি শামসুজ্জোহার ভাই মনিরের গোডাউনে মজুত রাখা হতো। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা মনিরের বাড়ির দিকে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করত। এমনকি কোনো ভুক্তভোগী চুরি বা ডাকাতির বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলরের কাছে নালিশ করতে গেলে উল্টো তাঁদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। এ ছাড়া স্থানীয় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম, আসলাম ও সাজুর সিন্ডিকেট নিয়মিত এসব চোরাই ও লুণ্ঠিত মালামাল কিনত বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়া দিয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা। বিভিন্ন সময় মামুন বা তার সহযোগীরা পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পড়লেও তাঁদের পক্ষে সাফাই গেয়ে ছাড়িয়ে নিতেন তিনি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা একাই পুরো ডাকাত চক্রের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন বলে এলাকায় জোর গুঞ্জন রয়েছে। তাঁর প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়েই এলাকায় কোনো বাধা ছাড়াই বীরদর্পে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল চক্রটি।ভুক্তভোগীদের মতে, শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে এলাকায় ¯’ায়ী শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়। অপরাধের নেপথ্য মদদদাতা ও মালামাল কেনাবেচার সিন্ডিকেট পরিচালনাকারী শামসুজ্জোহাসহ সব পৃষ্ঠপোষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এখানে অনেক লোকজন, আপনি পরে ফোন দেন বলে সংযোগটি কেটে দেন। এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “গ্রেপ্তারক...ত মামুন ডাকাত ও তার সহযোগীদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। অপরাধী কিংবা তাদের আশ্রয়দাতা যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ