প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শ্রমিকদের ৩০ নয়, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম: মাসুদুজ্জামান
||
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে দল দুটির অবস্থান ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক মনে হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাসুদুজ্জামান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আগেই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যার প্রয়োজন ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, ওই পরিস্থিতির সঙ্গে কোনো মালিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল না, এমনকি মালিক বা শ্রমিক—কোনো পক্ষের মতামতও নেওয়া হয়নি।তিনি জানান, শ্রমিকদের জন্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি তোলা হলেও বিষয়টি মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে নির্ধারণের সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আগের দিনই প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পেছনে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।মাসুদুজ্জামানের বক্তব্য, শ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকানো ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য ছিল না। বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাঁদের।মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায়ীদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অতীতে মজুরি বোর্ড যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে, ব্যবসায়ী নেতারা তা মেনে নিয়েছেন। এবারও বোর্ড গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মালিকপক্ষ সেটি মেনে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তের জন্য প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে আন্দোলনকে সংঘাতের দিকে নেওয়া হয়েছে।ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন চেম্বারের সাবেক এই সভাপতি। তিনি বলেন, নানা দপ্তরে বছরে লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এসব খরচ কমিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মালিকদের আরও সক্ষমতা তৈরি হতো।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে আমরা শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা না, আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে পারতাম।” ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।শ্রমিকদের আবাসন, রেশনিং ও চিকিৎসাসেবায় বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর আরও সক্রিয় ভূমিকা চান মাসুদুজ্জামান। সংগঠন দুটির ব্যাংকে শত শত কোটি টাকা এফডিআর হিসেবে জমা থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সংকটের সময়ে সেই অর্থ শ্রমিক ও মালিকদের সহযোগিতায় ব্যবহার করা হবে না কেন?তাঁর মতে, শ্রমিকদের কল্যাণে ডরমিটরি নির্মাণ, রেশনিং চালু এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। মালিক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের জীবনমান ভালো থাকলে শিল্পের উৎপাদন ও পণ্যের মানও উন্নত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মাসুদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের বেতন ২৫ হাজার, ৩০ হাজার না ৩২ হাজার টাকা হবে, তা মজুরি কমিশন ও সরকার নির্ধারণ করবে। ব্যবসায়ীরা সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে থাকবেন এবং শ্রমিকদের কল্যাণে নিজেদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ