প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বন্দরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ ড্রেজার পাইপ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
||
বন্দরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ ড্রেজার পাইপ, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিনারায়ণগঞ্জের বন্দরে সরকারি সড়ক ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে ড্রেজারের পাইপলাইন বসানোর প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর লোহার ও পিভিসি পাইপ উঁচু করে রাখা হচ্ছে। কোথাও আবার রাস্তা ছিদ্র করে নেওয়া হয়েছে বালু পরিবহনের সংযোগ। এতে সরকারি সড়কের ক্ষতির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের যাতায়াত।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পাইপের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন মোটরসাইকেল ও তিন চাকার অটোরিকশার চালকরা। সড়কের ওপর রাখা উঁচু পাইপ এবং সংযোগস্থলে ছড়িয়ে থাকা আলগা ইট-পাথরে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পাইপ পার হতে গিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি তাঁদের। এতে চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন।বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর ইউনিয়নের মিরকুন্ডি ও তিনগাঁও, মুছাপুরের লাঙ্গলবাজার মসজিদসংলগ্ন এলাকা ও কালীবাড়ি, চিড়াইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ, মদনপুরের মুরাপাড়া, ইস্টাউন ও কুড়িপাড়া, সাবদী আইসতলা, কান্দিপাড়া থেকে মাধবপাশা সড়ক, জিওধরা, নরপদী, মদনগঞ্জ ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নেওয়া হয়েছে।একইভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়ক এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি মসজিদসংলগ্ন সড়কেও পাইপ স্থাপন করতে দেখা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এলাকার কিছু লোক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, বন্দরের অনেক সড়কেই আগে থেকে গতিরোধক রয়েছে। এর সঙ্গে উঁচু করে রাখা ড্রেজার পাইপ যুক্ত হওয়ায় যানবাহন চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।ড্রেজার ব্যবসাকে ঘিরে এলাকায় বিরোধের ইতিহাসও তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরও পাইপ স্থাপন ও ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ ও প্রতিপক্ষ তৈরি হচ্ছে।শীত মৌসুম সামনে রেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সময়ে ড্রেজিং কার্যক্রম বাড়লে সড়কে পাইপের সংখ্যা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এরই মধ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বন্দরে ড্রেজার শ্রমিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগও উঠেছিল।এ পরিস্থিতিতে সরকারি সড়কের ওপর অবৈধ পাইপলাইন স্থাপন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সড়কের ক্ষতি করে এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কোনো ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয়।এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানিয়েছেন, বন্দরে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। তাই এ উপজেলায় ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বৈধতা নেই।তিনি আরও বলেন, লোহার কিংবা পিভিসি পাইপ ব্যবহার করে কোন কোন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে সংযোগ নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডই বরদাস্ত করা হবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ