নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, একসময় নারায়ণগঞ্জকে ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলা হতো। পাটশিল্প ও ব্যবসার ঐতিহ্যের কারণেই এই পরিচিতি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ভুল নীতির কারণে সেই সোনালি দিন হারিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন পাটশিল্প ও পাট ব্যবসাকে একসঙ্গে টিকিয়ে রাখার কার্যকর উদ্যোগ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) শহরের শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আবুল কালাম বলেন, স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে যখন পাট ব্যবসার সূচনা হয়, তখন ভারত বিভাজনের আগে পাটকলগুলো ছিল কলকাতায়। পরে নারায়ণগঞ্জে এ কে খান প্রথম পাট ব্যবসা শুরু করেন। তিনি নিজেও একসময় পাট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভুল নীতির কারণে অনেক ব্যবসায়ীকে পাট খাত থেকে সরে যেতে হয়েছে। জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সম্প্রতি বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সহজে সমাধানযোগ্য নয়, তাই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি বলেন, পাট ব্যবসায়ীরাই একসময় পাটকে ‘গোল্ডেন ফাইবার’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করেছিলেন। অথচ আজ সেই পাট বাজার থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। প্রান্তিক কৃষকরা যদি উৎপাদন খরচ তুলতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এই খাত আরও সংকটে পড়বে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের গফরগাঁও, ভালুকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ব্যবসা ছিল। কিন্তু একসময় সরকার বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ করে দিলে ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়ে যান। পাট মজুদ হয়ে যায়, অথচ বাফার স্টক করার মতো অর্থ তাদের হাতে ছিল না। তখন সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, সে সময়ের মন্ত্রী নিজেও একটি পাটকলের মালিক ছিলেন। ফলে কী স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বর্তমানেও একই ধরনের স্বার্থের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পাটশিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, একসময় নারায়ণগঞ্জকে ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলা হতো। পাটশিল্প ও ব্যবসার ঐতিহ্যের কারণেই এই পরিচিতি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ভুল নীতির কারণে সেই সোনালি দিন হারিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন পাটশিল্প ও পাট ব্যবসাকে একসঙ্গে টিকিয়ে রাখার কার্যকর উদ্যোগ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) শহরের শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আবুল কালাম বলেন, স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে যখন পাট ব্যবসার সূচনা হয়, তখন ভারত বিভাজনের আগে পাটকলগুলো ছিল কলকাতায়। পরে নারায়ণগঞ্জে এ কে খান প্রথম পাট ব্যবসা শুরু করেন। তিনি নিজেও একসময় পাট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভুল নীতির কারণে অনেক ব্যবসায়ীকে পাট খাত থেকে সরে যেতে হয়েছে। জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সম্প্রতি বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সহজে সমাধানযোগ্য নয়, তাই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।
তিনি বলেন, পাট ব্যবসায়ীরাই একসময় পাটকে ‘গোল্ডেন ফাইবার’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করেছিলেন। অথচ আজ সেই পাট বাজার থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। প্রান্তিক কৃষকরা যদি উৎপাদন খরচ তুলতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে এই খাত আরও সংকটে পড়বে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের গফরগাঁও, ভালুকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার ব্যবসা ছিল। কিন্তু একসময় সরকার বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ করে দিলে ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়ে যান। পাট মজুদ হয়ে যায়, অথচ বাফার স্টক করার মতো অর্থ তাদের হাতে ছিল না। তখন সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, সে সময়ের মন্ত্রী নিজেও একটি পাটকলের মালিক ছিলেন। ফলে কী স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বর্তমানেও একই ধরনের স্বার্থের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পাটশিল্প রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন