রেলপাশে অস্থায়ী মার্কেটে সরছেন হকাররা, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তালিকা করবে নাসিকনগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি হকারদের জীবিকা অব্যাহত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। এর অংশ হিসেবে রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হকারদের বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এর আগে প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রস্তুত করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন খান।সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেটের গলাচিপা পর্যন্ত রেললাইনের পাশের নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেন নাসিক প্রশাসক। এ সময় হকার স্থানান্তরের প্রস্তুতি ও চলমান কাজের অগ্রগতি দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরে বিভিন্ন পেশার মানুষ বসবাস করেন। সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপাতত রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় তাদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে যাচাই ছাড়া কাউকে হকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।”তিনি আরও বলেন, “প্রথমে প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি করা হবে। যাচাইয়ের পর যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী, শুধু তাদেরই নির্ধারিত স্থানে বসানো হবে। আগের মতো যত্রতত্র বরাদ্দ দেওয়া হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।”নাসিক প্রশাসক জানান, নির্ধারিত জায়গার পরিমাপ শেষে প্রতিটি হকারের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি স্টলের নম্বর দেওয়া হবে এবং সেই নম্বর অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন হকাররা।তিনি বলেন, “স্থানটি বেশ বড়। প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা গেলে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারবেন। সামনে দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে হকাররা আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারবেন।”কোন এলাকার হকারদের নতুন স্থানে নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নগরীর বিবি রোড, সলিমুল্লাহ রোড, শায়েস্তা খান রোড ও খানপুর হাসপাতাল রোডের হকারদের ধাপে ধাপে স্থানান্তর করা হবে।রেললাইনের পাশে অস্থায়ী মার্কেট স্থাপনে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে নাসিক প্রশাসক বলেন, “নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে স্থায়ী ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ট্রেন চলাচল ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।”তিনি আরও জানান, হকারদের স্থানান্তরের নির্দিষ্ট দিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অস্থায়ী মার্কেটের কার্যক্রম উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।