বি পি নিউজ ২৪

আমাদের মেয়ে ফিরে এসেছে, তাকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই


প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আমাদের মেয়ে ফিরে এসেছে, তাকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই

দীর্ঘদিন পর কারামুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসভবনে ফেরার পর সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ফুল নিয়ে, কেউ আবার শুধু একনজর দেখার আশায় হাজির হচ্ছেন দেওভোগের ‘চুনকা কুটির’-এ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকেই আইভীর বাসার সামনে অবস্থান নেন অনেক সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদেরই একজন বৃদ্ধা সালেহা বেগম। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের মেয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। এতদিন তাকে ছাড়া খুব কষ্টে ছিলাম। এখন তাকে ফিরে পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমার ইচ্ছা, তিনি আবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিন এবং মেয়র হন।”

বুধবার গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসায় ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বাসায় ফেরার পর তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি চাই সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গড়ে উঠুক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মা রয়েছেন, আশা করি সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।”

আইভীর বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ আরেক সমর্থক রুমা বেগম বলেন, “অনেকদিন পর আমাদের মা ফিরে এসেছেন। এখনও দেখা হয়নি, তিনি বিশ্রামে আছেন। পরে গিয়ে দেখা করব।”

এদিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরা এলাকা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হান্নান মিয়াও আইভীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। তিনি ফুলের মালা দিয়ে আইভীকে বরণ করেন। হান্নান বলেন, “তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তাকে দেখতে এসেছি।”

আরেক সমর্থক রহিমা বেগমের ভাষ্য, “আইভী নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা তাকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।”

আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সিসিটিভি স্থাপন পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর বাসায় ফেরায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে দেওভোগের নিজ বাসা থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


আমাদের মেয়ে ফিরে এসেছে, তাকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন পর কারামুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসভবনে ফেরার পর সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ফুল নিয়ে, কেউ আবার শুধু একনজর দেখার আশায় হাজির হচ্ছেন দেওভোগের ‘চুনকা কুটির’-এ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকেই আইভীর বাসার সামনে অবস্থান নেন অনেক সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদেরই একজন বৃদ্ধা সালেহা বেগম। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাদের মেয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। এতদিন তাকে ছাড়া খুব কষ্টে ছিলাম। এখন তাকে ফিরে পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমার ইচ্ছা, তিনি আবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিন এবং মেয়র হন।”

বুধবার গভীর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসায় ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বাসায় ফেরার পর তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি চাই সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গড়ে উঠুক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মা রয়েছেন, আশা করি সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।”

আইভীর বাড়ির সামনে অপেক্ষমাণ আরেক সমর্থক রুমা বেগম বলেন, “অনেকদিন পর আমাদের মা ফিরে এসেছেন। এখনও দেখা হয়নি, তিনি বিশ্রামে আছেন। পরে গিয়ে দেখা করব।”

এদিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরা এলাকা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হান্নান মিয়াও আইভীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। তিনি ফুলের মালা দিয়ে আইভীকে বরণ করেন। হান্নান বলেন, “তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তাকে দেখতে এসেছি।”

আরেক সমর্থক রহিমা বেগমের ভাষ্য, “আইভী নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমরা তাকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।”

আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সিসিটিভি স্থাপন পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর বাসায় ফেরায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে দেওভোগের নিজ বাসা থেকে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ