বি পি নিউজ ২৪

মেট্রোর দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা


প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মেট্রোর দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই প্রকল্পে মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকালও আরও ৫ থেকে ৬ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সংশোধিত ব্যয়ের এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ব্যয়ের এত বড় বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে সরকার সাত সদস্যের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছিল। কমিটি তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, নতুন কর আরোপ এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পগুলোর ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এমআরটি লাইন-১-এ ব্যয় বাড়ছে ৬৮ হাজার কোটি

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। এখন সেটি প্রায় ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। নতুন প্রস্তাবে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-১-এর দুটি রুট রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি পাতালপথে নির্মাণ করা হবে। এ পথে ১২টি স্টেশন থাকবে।

অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত রুটটি মূলত উড়ালপথে নির্মিত হবে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার এবং স্টেশন থাকবে ৯টি। দুটি রুটে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন বলে প্রকল্প পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে জাইকার অর্থায়ন দাঁড়াবে প্রায় ৮৫ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, আর সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

এমআরটি লাইন-৫-এ বাড়ছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি

অন্যদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয়ও বড় আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

এ প্রকল্পের অনুমোদিত মেয়াদ ছিল ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন প্রস্তাবে নির্মাণকাল আরও ৬ বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির জন্য জাইকার ঋণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদিত ২৯ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে জাইকার ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নের অংশও বেড়ে প্রায় ২৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

২০ কিলোমিটার রুটে ১৪ স্টেশন

এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। হেমায়েতপুর থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ পাতালপথে এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রুটে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ৯টি পাতাল এবং ৫টি উড়াল স্টেশন। হেমায়েতপুরে প্রকল্পটির ডিপো ও ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন বলে পরিকল্পনায় ধরা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দরপত্রে ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বেশি দর প্রস্তাব, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের নকশা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এমআরটি লাইন-১-এর জন্য ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫-এর জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখন সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাবটি যাচাই শেষে পরিকল্পনা কমিশন থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


মেট্রোর দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই প্রকল্পে মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকালও আরও ৫ থেকে ৬ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সংশোধিত ব্যয়ের এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ব্যয়ের এত বড় বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে সরকার সাত সদস্যের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করেছিল। কমিটি তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, নতুন কর আরোপ এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পগুলোর ব্যয় প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এমআরটি লাইন-১-এ ব্যয় বাড়ছে ৬৮ হাজার কোটি

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। এখন সেটি প্রায় ১৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। নতুন প্রস্তাবে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-১-এর দুটি রুট রয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি পাতালপথে নির্মাণ করা হবে। এ পথে ১২টি স্টেশন থাকবে।

অন্যদিকে নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত রুটটি মূলত উড়ালপথে নির্মিত হবে। এ অংশের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার এবং স্টেশন থাকবে ৯টি। দুটি রুটে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন বলে প্রকল্প পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে জাইকার অর্থায়ন দাঁড়াবে প্রায় ৮৫ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, আর সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

এমআরটি লাইন-৫-এ বাড়ছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি

অন্যদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয়ও বড় আকারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৫১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

এ প্রকল্পের অনুমোদিত মেয়াদ ছিল ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। নতুন প্রস্তাবে নির্মাণকাল আরও ৬ বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির জন্য জাইকার ঋণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদিত ২৯ হাজার কোটি টাকার পরিবর্তে জাইকার ঋণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নের অংশও বেড়ে প্রায় ২৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

২০ কিলোমিটার রুটে ১৪ স্টেশন

এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। হেমায়েতপুর থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ পাতালপথে এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই রুটে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে ৯টি পাতাল এবং ৫টি উড়াল স্টেশন। হেমায়েতপুরে প্রকল্পটির ডিপো ও ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন বলে পরিকল্পনায় ধরা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দরপত্রে ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় বেশি দর প্রস্তাব, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের নকশা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এমআরটি লাইন-১-এর জন্য ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫-এর জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখন সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাবটি যাচাই শেষে পরিকল্পনা কমিশন থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ