১৮ দিন বন্ধ থাকার পর সরকারি তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসটি খুলে দিতে রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে দুই সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে ঐকমত্য হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ছাত্রাবাস চালু, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে হলে ফেরানো এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানসহ কলেজ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ছাত্রদল নেতা আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। হলে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস ও আবাসিক ভবনের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সহযোগিতার কথা জানান তিনি।
ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধানের অংশ হিসেবেই এ বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘদিন ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কলেজ অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যে ছাত্রাবাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, তোলারাম কলেজে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসন করা সম্ভব। ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরাও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় নোটিশ জারি করে আগামীকাল থেকে শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে ছাত্রনেতারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তোলারাম কলেজে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখন ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্যোগেও দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই পক্ষ।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
১৮ দিন বন্ধ থাকার পর সরকারি তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসটি খুলে দিতে রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে দুই সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে ঐকমত্য হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ছাত্রাবাস চালু, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে হলে ফেরানো এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানসহ কলেজ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ছাত্রদল নেতা আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। হলে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস ও আবাসিক ভবনের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সহযোগিতার কথা জানান তিনি।
ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধানের অংশ হিসেবেই এ বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘদিন ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কলেজ অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যে ছাত্রাবাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, তোলারাম কলেজে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলেও আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসন করা সম্ভব। ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটির সদস্যরাও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় নোটিশ জারি করে আগামীকাল থেকে শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস চালু করার প্রত্যাশা রয়েছে।
কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে ছাত্রনেতারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে তোলারাম কলেজে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তখন ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্যোগেও দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দুই পক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন