বি পি নিউজ ২৪

নাম নারায়ণগঞ্জের হলেও মেট্রোর শেষ স্টেশন রূপগঞ্জের তারাবোতে


প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নাম নারায়ণগঞ্জের হলেও মেট্রোর শেষ স্টেশন রূপগঞ্জের তারাবোতে

৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত MRT Line-2 প্রকল্পকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে আগ্রহ বাড়লেও এর সর্বশেষ রুট নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইন নারায়ণগঞ্জ শহরে না গিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পর্যন্ত শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ MRT Line-2-এ মোট ২৪টি স্টেশন থাকবে। গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে ডেমরা হয়ে মেট্রোরেল পৌঁছাবে রূপগঞ্জের তারাবোতে। প্রকল্পের কিছু অংশ ভূগর্ভস্থ এবং কিছু অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের বড় অঙ্কের ঋণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও (এআইআইবি) অর্থায়নের বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা পিডিপিপি (PDPP) পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রুট বা স্টেশন নিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

প্রস্তাবিত রুটে গাবতলী থেকে মেট্রোরেল মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা হয়ে তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। সদরঘাট পর্যন্ত একটি পৃথক শাখা লাইন যুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

এখানেই নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জেলার নামের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সম্পর্ক থাকলেও এই মেট্রোরেল প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্রগুলোর একটি। প্রতিদিন চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ, খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন্তু বর্তমানে আলোচিত MRT Line-2-এর প্রস্তাবিত রুটে এসব গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকা অন্তর্ভুক্ত নেই।

অন্যদিকে, রূপগঞ্জের তারাবো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও পৌর এলাকা হওয়ায় সেখানে মেট্রোরেল পৌঁছালে ওই অঞ্চলের মানুষ রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা পাবেন। তবে এতে নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে সরাসরি মেট্রোরেল যোগাযোগের দাবি পূরণ হবে না।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রস্তাবে গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, সাইনবোর্ড, ভূইগড় ও জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে আলোচিত সর্বশেষ প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিবর্তে রূপগঞ্জের তারাবোকে MRT Line-2-এর শেষ প্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে সরাসরি মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার দাবি জোরালো হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রকল্পের সঙ্গে একটি জেলার নাম যুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃতপক্ষে কোন এলাকা পর্যন্ত রেললাইন যাবে এবং কোথায় স্টেশন হবে, সেটিই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রধান প্রশ্ন—৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার MRT Line-2 কি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, নাকি এর গন্তব্য রূপগঞ্জের তারাবোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও রুট নির্ধারণের আগে এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়। তবে সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে মেট্রোরেলের নির্ধারিত গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ শহর নয়, রূপগঞ্জের তারাবো।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নাম নারায়ণগঞ্জের হলেও মেট্রোর শেষ স্টেশন রূপগঞ্জের তারাবোতে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত MRT Line-2 প্রকল্পকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে আগ্রহ বাড়লেও এর সর্বশেষ রুট নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইন নারায়ণগঞ্জ শহরে না গিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পর্যন্ত শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ MRT Line-2-এ মোট ২৪টি স্টেশন থাকবে। গাবতলী থেকে যাত্রা শুরু করে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে ডেমরা হয়ে মেট্রোরেল পৌঁছাবে রূপগঞ্জের তারাবোতে। প্রকল্পের কিছু অংশ ভূগর্ভস্থ এবং কিছু অংশ উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। এর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের বড় অঙ্কের ঋণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও (এআইআইবি) অর্থায়নের বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা পিডিপিপি (PDPP) পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রুট বা স্টেশন নিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে।

প্রস্তাবিত রুটে গাবতলী থেকে মেট্রোরেল মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা হয়ে তারাবো পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। সদরঘাট পর্যন্ত একটি পৃথক শাখা লাইন যুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

এখানেই নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জেলার নামের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সম্পর্ক থাকলেও এই মেট্রোরেল প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষ সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্রগুলোর একটি। প্রতিদিন চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, নিতাইগঞ্জ, খানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন্তু বর্তমানে আলোচিত MRT Line-2-এর প্রস্তাবিত রুটে এসব গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকা অন্তর্ভুক্ত নেই।

অন্যদিকে, রূপগঞ্জের তারাবো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও পৌর এলাকা হওয়ায় সেখানে মেট্রোরেল পৌঁছালে ওই অঞ্চলের মানুষ রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুবিধা পাবেন। তবে এতে নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে সরাসরি মেট্রোরেল যোগাযোগের দাবি পূরণ হবে না।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের একটি প্রস্তাবে গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, সাইনবোর্ড, ভূইগড় ও জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে আলোচিত সর্বশেষ প্রস্তাবে নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিবর্তে রূপগঞ্জের তারাবোকে MRT Line-2-এর শেষ প্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদনের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরকে সরাসরি মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার দাবি জোরালো হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রকল্পের সঙ্গে একটি জেলার নাম যুক্ত থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রকৃতপক্ষে কোন এলাকা পর্যন্ত রেললাইন যাবে এবং কোথায় স্টেশন হবে, সেটিই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রধান প্রশ্ন—৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকার MRT Line-2 কি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, নাকি এর গন্তব্য রূপগঞ্জের তারাবোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও রুট নির্ধারণের আগে এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়। তবে সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে মেট্রোরেলের নির্ধারিত গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ শহর নয়, রূপগঞ্জের তারাবো।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ