গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণসংহতির বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সংগঠনটির উদ্যোগে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর রেলগেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শুভ দেব। এতে বক্তব্য দেন মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী বিপ্লব খান, নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সদস্য সচিব মো. সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মুনা, জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে তরিকুল সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চলায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনে। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে নাগরিকদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
তিনি দাবি করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৩০০টি গার্মেন্ট কারখানার মালিক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে সংকট চলতে থাকলে শিল্পখাত আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তরিকুল সুজন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণ দুর্ভোগের জন্য ভোট দেয়নি। মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে গণসংহতি আন্দোলন আগের মতোই রাজপথে থাকবে বলেও তিনি জানান।
মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী বিপ্লব খান বলেন, কোনো ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ করলেই যদি বলা হয়, ‘আমরাও তো সরকারে আছি’, তাহলে জনগণের সমস্যার কথা বলার জায়গা থাকে না। সরকারে থাকলেও অন্যায়, জুলুম কিংবা মানুষের সংকটের বিষয়ে নীরব থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের বাইরে গণসংহতি আন্দোলনের কোনো আলাদা স্বার্থ নেই। দ্রুত সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাতকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ শিল্প টিকে থাকলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
সমাবেশে পপি রাণী সরকার নারায়ণগঞ্জের আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় ডিপিডিসির প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিদ্যুৎ বিভাগকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য রফিকুল বাপ্পি, নাজমা বেগম, রাইসুল রাব্বিসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণসংহতির বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সংগঠনটির উদ্যোগে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর রেলগেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শুভ দেব। এতে বক্তব্য দেন মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী বিপ্লব খান, নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সদস্য সচিব মো. সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মুনা, জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে তরিকুল সুজন বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট চলায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনে। আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে নাগরিকদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
তিনি দাবি করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৩০০টি গার্মেন্ট কারখানার মালিক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে সংকট চলতে থাকলে শিল্পখাত আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তরিকুল সুজন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছে। জনগণ দুর্ভোগের জন্য ভোট দেয়নি। মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে গণসংহতি আন্দোলন আগের মতোই রাজপথে থাকবে বলেও তিনি জানান।
মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী বিপ্লব খান বলেন, কোনো ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ করলেই যদি বলা হয়, ‘আমরাও তো সরকারে আছি’, তাহলে জনগণের সমস্যার কথা বলার জায়গা থাকে না। সরকারে থাকলেও অন্যায়, জুলুম কিংবা মানুষের সংকটের বিষয়ে নীরব থাকার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের বাইরে গণসংহতি আন্দোলনের কোনো আলাদা স্বার্থ নেই। দ্রুত সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাতকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ শিল্প টিকে থাকলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
সমাবেশে পপি রাণী সরকার নারায়ণগঞ্জের আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় ডিপিডিসির প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিদ্যুৎ বিভাগকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য রফিকুল বাপ্পি, নাজমা বেগম, রাইসুল রাব্বিসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন