সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রান্নার জ্বালানির ব্যয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়।
কিন্তু নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এর চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, কোথাও ২ হাজার ৩০০ টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একজন ভোক্তাকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৬৩ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি দাম দেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডারও মিলছে না। তবে বেশি দাম দিতে সম্মত হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অবশ্য খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায় নিজেদের ওপর নিতে নারাজ। তাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের বক্তব্য, কোম্পানিগুলো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ তারা পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিক্রির রসিদ না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাজার তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে বাজার তদারকি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কয়েকটি দোকানে জরিমানাও করা হয়েছে।
ডিসি জানান, শুধু খুচরা পর্যায়ে নয়, এলপিজির আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় অতিরিক্ত দামের কারণ তৈরি হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ভোক্তারা বলছেন, শুধু কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে বাজারে তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সরকার নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারদরের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত দামের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকারও বেশি অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রান্নার জ্বালানির ব্যয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ অক্টোবর অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়।
কিন্তু নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এর চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, কোথাও ২ হাজার ৩০০ টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ একজন ভোক্তাকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৬৩ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়তি দাম দেওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডারও মিলছে না। তবে বেশি দাম দিতে সম্মত হলে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অবশ্য খুচরা বিক্রেতারা অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায় নিজেদের ওপর নিতে নারাজ। তাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের বক্তব্য, কোম্পানিগুলো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচের কারণে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ তারা পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিক্রির রসিদ না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাজার তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে বাজার তদারকি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার কয়েকটি দোকানে জরিমানাও করা হয়েছে।
ডিসি জানান, শুধু খুচরা পর্যায়ে নয়, এলপিজির আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় অতিরিক্ত দামের কারণ তৈরি হচ্ছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ভোক্তারা বলছেন, শুধু কাগজে-কলমে দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে বাজারে তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন