নারায়ণগঞ্জ শহরে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কড়াকড়ির মধ্যে এবার বৈধ ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, নগরীর বিভিন্ন রুটে আগের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন কিছু চালক। কোথাও কোথাও একই দূরত্বে ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরীতে ইজিবাইক চলাচল সীমিত হওয়ার পর কিছু চালক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ করছেন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে আপত্তি জানালে অনেক সময় চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
নগরীর মেট্রো হল মোড় থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত মিশুকে আগে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে একই পথে চারজন যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে অল্প দূরত্বের এ পথেই যাত্রীদের আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে।
শুধু নগরীর অভ্যন্তরীণ রুট নয়, শহরতলির বিভিন্ন সড়কেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইজিবাইক নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করে ঘুরপথে শহরে প্রবেশ করছে। এতে যাত্রীদের সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
এদিকে চিটাগাংরোড-আদমজী-চাষাঢ়া সড়কে চলাচলকারী ছয় আসনের ইজিবাইক নিয়ে নতুন করে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, আগে এসব ইজিবাইক নগরীর মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ পেত। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে মেট্রো হল মোড়েই সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আদমজী এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আসা যাত্রীদের মেট্রো হল মোড়ে নেমে অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাতায়াতের খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে মাঝপথে যানবাহন পরিবর্তন করতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, চিটাগাংরোড ও আদমজীগামী ছয় আসনের ইজিবাইকগুলোকে আগের মতো মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলে শহরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
একই সঙ্গে নগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাত্রীরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান এক ফেসবুক পোস্টে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিশুক ও অটোরিকশা চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
ওই পোস্টে অমিত হাসান আরও দাবি করেন, নবীগঞ্জ ঘাট থেকে মিশনপাড়া পর্যন্ত মিশুকে তাঁর কাছ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের ভাষ্য, নগরীতে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভাড়ার বিষয়টিও সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তাঁদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কিছু চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের সুফলের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজিবাইক ও মিশুকের রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রকাশ্যে জানানো হোক। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রীদের হয়রানি কমবে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের কড়াকড়ির মধ্যে এবার বৈধ ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, নগরীর বিভিন্ন রুটে আগের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছেন কিছু চালক। কোথাও কোথাও একই দূরত্বে ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরীতে ইজিবাইক চলাচল সীমিত হওয়ার পর কিছু চালক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ করছেন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে আপত্তি জানালে অনেক সময় চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
নগরীর মেট্রো হল মোড় থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত মিশুকে আগে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে একই পথে চারজন যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে অল্প দূরত্বের এ পথেই যাত্রীদের আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে।
শুধু নগরীর অভ্যন্তরীণ রুট নয়, শহরতলির বিভিন্ন সড়কেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইজিবাইক নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করে ঘুরপথে শহরে প্রবেশ করছে। এতে যাত্রীদের সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
এদিকে চিটাগাংরোড-আদমজী-চাষাঢ়া সড়কে চলাচলকারী ছয় আসনের ইজিবাইক নিয়ে নতুন করে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, আগে এসব ইজিবাইক নগরীর মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ পেত। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে মেট্রো হল মোড়েই সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আদমজী এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আসা যাত্রীদের মেট্রো হল মোড়ে নেমে অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাতায়াতের খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে মাঝপথে যানবাহন পরিবর্তন করতে গিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, চিটাগাংরোড ও আদমজীগামী ছয় আসনের ইজিবাইকগুলোকে আগের মতো মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলে শহরমুখী যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
একই সঙ্গে নগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাত্রীরা।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান এক ফেসবুক পোস্টে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিশুক ও অটোরিকশা চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন, কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
ওই পোস্টে অমিত হাসান আরও দাবি করেন, নবীগঞ্জ ঘাট থেকে মিশনপাড়া পর্যন্ত মিশুকে তাঁর কাছ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের ভাষ্য, নগরীতে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভাড়ার বিষয়টিও সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
তাঁদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কিছু চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের সুফলের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজিবাইক ও মিশুকের রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রকাশ্যে জানানো হোক। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রীদের হয়রানি কমবে।

আপনার মতামত লিখুন