বি পি নিউজ ২৪

বক্তাবলীতে সোহানের প্রতারণার ফাঁদ, ভুয়া ডিবি পরিচয়ে বাইক ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ



বক্তাবলীতে সোহানের প্রতারণার ফাঁদ, ভুয়া ডিবি পরিচয়ে বাইক ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার ইকবালের ছেলে সোহানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভুয়া ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মানুষের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহান বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ওয়াশ ও সার্ভিসিংয়ের দোকান পরিচালনা করেন। তবে এই ব্যবসার আড়ালে তিনি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহান কম দামে মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার যুবকদের কাছে বাইক বিক্রি করতেন। পরে তার সহযোগীরা ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর নাটক করে ওই মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে নিয়ে যেত।

ভুক্তভোগী লোকমান জানান, তিনি একদিন বক্তাবলী বাজারে অবস্থানকালে দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে কানাইনগর এলাকায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তিরা সোহানের সঙ্গে অবস্থান করছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন তারা প্রকৃত ডিবি সদস্য নয়।

আরেক ভুক্তভোগী নাইম জানান, তিনি সোহানের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করেছিলেন। কিছুদিন ব্যবহারের পর সেটি বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন। এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি ক্রেতা সেজে তাকে মুন্সীগঞ্জের মোল্লাবাজার এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করে বাইকটি নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকাও আদায় করা হয়। পরে অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, তারাও ভুয়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করেছে।

এদিকে শান্ত নামের আরেক যুবক অভিযোগ করেন, তার মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে রাখা হয়েছিল। পরে ডিবি পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি সেটি নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে সোহান নিজেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে ডিবি সদস্য নন, বরং আদালতে নিম্নপদে কর্মরত বলে দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোহানের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে তার গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এসে ভুক্তভোগী নাইমের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেন। সোহান ও তার পরিবারও বিষয়টি মেনে নিলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোপন সূত্রে আরও জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সোহান লোকমান ও শান্তকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী নাইম থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬


বক্তাবলীতে সোহানের প্রতারণার ফাঁদ, ভুয়া ডিবি পরিচয়ে বাইক ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার ইকবালের ছেলে সোহানের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভুয়া ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মানুষের মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া এবং চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহান বক্তাবলীর কানাইনগর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ওয়াশ ও সার্ভিসিংয়ের দোকান পরিচালনা করেন। তবে এই ব্যবসার আড়ালে তিনি চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চোরাই মোটরসাইকেল চক্রের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহান কম দামে মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার যুবকদের কাছে বাইক বিক্রি করতেন। পরে তার সহযোগীরা ভুয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর নাটক করে ওই মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে নিয়ে যেত।

ভুক্তভোগী লোকমান জানান, তিনি একদিন বক্তাবলী বাজারে অবস্থানকালে দুই ব্যক্তি নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে তাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে কানাইনগর এলাকায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তিরা সোহানের সঙ্গে অবস্থান করছে। তখন তিনি বুঝতে পারেন তারা প্রকৃত ডিবি সদস্য নয়।

আরেক ভুক্তভোগী নাইম জানান, তিনি সোহানের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করেছিলেন। কিছুদিন ব্যবহারের পর সেটি বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেন। এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি ক্রেতা সেজে তাকে মুন্সীগঞ্জের মোল্লাবাজার এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করে বাইকটি নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকাও আদায় করা হয়। পরে অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, তারাও ভুয়া ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা করেছে।

এদিকে শান্ত নামের আরেক যুবক অভিযোগ করেন, তার মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য গ্যারেজে রাখা হয়েছিল। পরে ডিবি পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি সেটি নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে সোহান নিজেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি নিজেকে ডিবি সদস্য নন, বরং আদালতে নিম্নপদে কর্মরত বলে দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোহানের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে তার গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এসে ভুক্তভোগী নাইমের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেন। সোহান ও তার পরিবারও বিষয়টি মেনে নিলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোপন সূত্রে আরও জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর সোহান লোকমান ও শান্তকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।

এদিকে ভুক্তভোগী নাইম থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ