বন্দরের অপরাধ সাম্রাজের এক মুকুটহীন সম্রাট ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ। এ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে বন্দরের প্রায় সকল স্থানেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশাল সন্ত্রাসীবাহিনী। এসব বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো এক একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। ওইসব ভয়ংকর সন্ত্রাসী দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাতেন তিনি। বর্তমানেও সদর-বন্দর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে এই সাইদুলের। তাছাড়া বন্দরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পক্ষের বিভিন্ন মিছিলে প্রকাশ্যে এই সাইদুল লিড দিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
কুখ্যাত খান মাসুদের পালিত তেমনি এক ভয়ংকর কিশোরগ্যাং বাহিনীর প্রধান ছিলেন যুবলীগ নেতা সাইদুল। এই সাইদুল বন্দর কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে মুকফুলদী এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে।বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলসহ বর্তমানেও এলাকায় মাদক ব্যবসা, দখলবাজ ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন তিনি। যা রহস্যজনকভাবে এখনও চলমান আছে।
জানাগেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে যুবলীগ নেতা খান মাসুদের সাথে সাথে যুবলীগ ক্যাডার সাইদুলও সরাসরি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিলেন। প্রভাবখাটিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বার বার বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করেছেন। তবুও ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্রতর হতে দেখে অর্থ্যাৎ ৫ আগস্টের সকালে চাপাতি,রাম দা নিয়ে শোডাউন দিয়েছিলেন। কিন্তু সাইদুলদের কোন চক্রান্তই সেদিন কোন কাজে আসেনি। ছাত্র-জনতার বাধভাঙ্গা স্রোতে ভেস্তে যায় তাদের সকল ষড়যন্ত্র।
এদিকে একই দিন দুপুরের দিকে হাসিনা সরকারের পতনের খবর জানাজানি হতে শুরু করলে কৌশলে পালিয়ে যায় সাইদুলের বস্ যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। সেই সাথে সাথে আত্মগোপনে চলে যান সাইদুলসহ খান মাসুদের বেশিরভাগ সাঙ্গপাঙ্গরা। তবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায়ই কোন এক রহস্যজনক কারণে প্রকাশ্যে চলে আসেন সাইদুল। সেই থেকে তিনি এখনও প্রকাশ্যে রয়েছেন বলে জানাগেছে। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রক এই যুবলীগ নেতা কার নিয়ন্ত্রণে থেকে প্রকাশ্য ঘোরাফেরা করে দখলদারিত্ব করে যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বন্দরে এই সন্ত্রাসী বাহিনী এখনো কি ভাবে প্রকাশ্যে। তা ছাড়া বিএনপির একটি কুচক্রীমহল বন্দরে যুবলীগ নেতাদের লিড দিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে অনেকটা বহাল তবিয়তেই রয়েছেন খান মাসুদের অন্যতম গেটিস মুকফুলদীর সাইদুল । শুধু তাই নয়, পূর্বের মতই স্বল্পেরচর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
নতুন করে কিশোরগ্যাং সৃষ্টি করে এলাকায় ফের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। যার ফলে আমরা এলাকাবাসী অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলবাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বন্দর থানা বিএনপির নেতারা বলছেন, এটা গোটা বন্দরবাসী জানে যে, সাইদুল বিগত দিনে খান মাসুদের সাথে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। খান মাসুদ যা বলতো তিনি তাই করতেন। ৫ আগস্টের সকালেও তিনি খান মাসুদের নির্দেশে বন্দরে ছাত্র-জনতার উপরে তান্ডব চালিয়েছিলেন। এমন নানা অন্যায় করার পরও তিনি কিভাবে এলাকায় থাকে, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং ফের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে, এটা আমাদের বোধগোম্য হয় না। পুলিশ কি করে, কেন তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এটা আমরা জানতে চাই।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপি করাটাই অন্যায় ছিলো। শুধু বিএনপি করার কারণেই তারা (পুলিশ) আমাদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠাতো। আমাদের দল নিষিদ্ধ ছিলো না। তবুও তারা আমাদের দলীয় কমর্সসূচি পালন করতে দিতো না, অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করতো।
কিন্তু আজ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এ দলের লোকজন কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর জবাব চাই। আমরা বন্দর থানার ওসিসহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রেখে বলতে চাই, যুবলীগ ক্যাডার সাইদুলের মত যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কাজ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
কারণ, তারা এখনও দেশবিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা এখনও গোপনে গোপনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং তারা বাইরে থাকলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
বন্দরের অপরাধ সাম্রাজের এক মুকুটহীন সম্রাট ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খান মাসুদ। এ সাম্রাজ্য ধরে রাখতে বন্দরের প্রায় সকল স্থানেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন বিশাল সন্ত্রাসীবাহিনী। এসব বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো এক একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। ওইসব ভয়ংকর সন্ত্রাসী দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাতেন তিনি। বর্তমানেও সদর-বন্দর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে এই সাইদুলের। তাছাড়া বন্দরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পক্ষের বিভিন্ন মিছিলে প্রকাশ্যে এই সাইদুল লিড দিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
কুখ্যাত খান মাসুদের পালিত তেমনি এক ভয়ংকর কিশোরগ্যাং বাহিনীর প্রধান ছিলেন যুবলীগ নেতা সাইদুল। এই সাইদুল বন্দর কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে মুকফুলদী এলাকার কাদির মিয়ার ছেলে।বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলসহ বর্তমানেও এলাকায় মাদক ব্যবসা, দখলবাজ ও চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন তিনি। যা রহস্যজনকভাবে এখনও চলমান আছে।
জানাগেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে যুবলীগ নেতা খান মাসুদের সাথে সাথে যুবলীগ ক্যাডার সাইদুলও সরাসরি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিলেন। প্রভাবখাটিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বার বার বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করেছেন। তবুও ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্রতর হতে দেখে অর্থ্যাৎ ৫ আগস্টের সকালে চাপাতি,রাম দা নিয়ে শোডাউন দিয়েছিলেন। কিন্তু সাইদুলদের কোন চক্রান্তই সেদিন কোন কাজে আসেনি। ছাত্র-জনতার বাধভাঙ্গা স্রোতে ভেস্তে যায় তাদের সকল ষড়যন্ত্র।
এদিকে একই দিন দুপুরের দিকে হাসিনা সরকারের পতনের খবর জানাজানি হতে শুরু করলে কৌশলে পালিয়ে যায় সাইদুলের বস্ যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। সেই সাথে সাথে আত্মগোপনে চলে যান সাইদুলসহ খান মাসুদের বেশিরভাগ সাঙ্গপাঙ্গরা। তবে মাত্র কয়েক মাসের মাথায়ই কোন এক রহস্যজনক কারণে প্রকাশ্যে চলে আসেন সাইদুল। সেই থেকে তিনি এখনও প্রকাশ্যে রয়েছেন বলে জানাগেছে। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রক এই যুবলীগ নেতা কার নিয়ন্ত্রণে থেকে প্রকাশ্য ঘোরাফেরা করে দখলদারিত্ব করে যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও বন্দরে এই সন্ত্রাসী বাহিনী এখনো কি ভাবে প্রকাশ্যে। তা ছাড়া বিএনপির একটি কুচক্রীমহল বন্দরে যুবলীগ নেতাদের লিড দিচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের ম্যানেজ করে অনেকটা বহাল তবিয়তেই রয়েছেন খান মাসুদের অন্যতম গেটিস মুকফুলদীর সাইদুল । শুধু তাই নয়, পূর্বের মতই স্বল্পেরচর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
নতুন করে কিশোরগ্যাং সৃষ্টি করে এলাকায় ফের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। যার ফলে আমরা এলাকাবাসী অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলবাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বন্দর থানা বিএনপির নেতারা বলছেন, এটা গোটা বন্দরবাসী জানে যে, সাইদুল বিগত দিনে খান মাসুদের সাথে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। খান মাসুদ যা বলতো তিনি তাই করতেন। ৫ আগস্টের সকালেও তিনি খান মাসুদের নির্দেশে বন্দরে ছাত্র-জনতার উপরে তান্ডব চালিয়েছিলেন। এমন নানা অন্যায় করার পরও তিনি কিভাবে এলাকায় থাকে, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং ফের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে, এটা আমাদের বোধগোম্য হয় না। পুলিশ কি করে, কেন তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না এটা আমরা জানতে চাই।
বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপি করাটাই অন্যায় ছিলো। শুধু বিএনপি করার কারণেই তারা (পুলিশ) আমাদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠাতো। আমাদের দল নিষিদ্ধ ছিলো না। তবুও তারা আমাদের দলীয় কমর্সসূচি পালন করতে দিতো না, অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করতো।
কিন্তু আজ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এ দলের লোকজন কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে এর জবাব চাই। আমরা বন্দর থানার ওসিসহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রেখে বলতে চাই, যুবলীগ ক্যাডার সাইদুলের মত যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কাজ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
কারণ, তারা এখনও দেশবিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা এখনও গোপনে গোপনে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং তারা বাইরে থাকলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন