বি পি নিউজ ২৪

নারায়ণগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিচ্ছে সড়ক, দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল


প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নারায়ণগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিচ্ছে সড়ক, দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে, আর অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগরিক অসচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। সম্প্রতি ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে—সড়কের বিভিন্ন স্থানে গৃহস্থালি, মেডিকেল ও টেক্সটাইল বর্জ্যের বড় বড় স্তুপ জমে আছে।

১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর রেললাইন থেকে দেওভোগ পর্যন্ত বিস্তৃত আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কটি প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচলের অন্যতম ব্যস্ত রুট। কিন্তু সড়কের একাধিক অংশ এখন অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেওভোগের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য সময়মতো সংগ্রহ না হওয়ায় মানুষ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু হোসিয়ারি কারখানা রাতের বেলায় কাপড়ের টুকরা ও প্লাস্টিক সড়কে ফেলে পরিবেশকে আরও দূষিত করছে বলে তিনি জানান।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরাইল ও আশপাশের এলাকাতেও সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষণ আরও বাড়াচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, জিমখানা থেকে কাশীপুর পর্যন্ত লেক এলাকায়ও আবার ময়লা ফেলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা পূর্বের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগকে ব্যাহত করছে।

এদিকে ১৫ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বর্জ্যের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি। ভুইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিন বলেন, নির্ধারিত ফি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে ময়লা না দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। ফলে বৌবাজার ও নামাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় বর্জ্যের স্তুপ জমে আছে, যা থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে নাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলমগীর হিরণ জানান, কিছু এলাকায় বর্জ্য অপসারণে দেরি হলেও তা নিয়মিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগ্রহ ব্যবস্থায় কিছু গাফিলতি রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন।

নগরবাসীর দাবি, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, কঠোর নজরদারি এবং নাগরিক সচেতনতা না বাড়ালে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের উদ্যোগ বাস্তবে সফল হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে রূপ নিচ্ছে সড়ক, দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়কের পাশে দীর্ঘ সময় ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে, আর অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগরিক অসচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। সম্প্রতি ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে—সড়কের বিভিন্ন স্থানে গৃহস্থালি, মেডিকেল ও টেক্সটাইল বর্জ্যের বড় বড় স্তুপ জমে আছে।

১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর রেললাইন থেকে দেওভোগ পর্যন্ত বিস্তৃত আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কটি প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচলের অন্যতম ব্যস্ত রুট। কিন্তু সড়কের একাধিক অংশ এখন অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেওভোগের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য সময়মতো সংগ্রহ না হওয়ায় মানুষ রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু হোসিয়ারি কারখানা রাতের বেলায় কাপড়ের টুকরা ও প্লাস্টিক সড়কে ফেলে পরিবেশকে আরও দূষিত করছে বলে তিনি জানান।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরাইল ও আশপাশের এলাকাতেও সড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ দূষণ আরও বাড়াচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, জিমখানা থেকে কাশীপুর পর্যন্ত লেক এলাকায়ও আবার ময়লা ফেলার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা পূর্বের পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগকে ব্যাহত করছে।

এদিকে ১৫ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বর্জ্যের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি। ভুইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিন বলেন, নির্ধারিত ফি থাকা সত্ত্বেও অনেকে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে ময়লা না দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন। ফলে বৌবাজার ও নামাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় বর্জ্যের স্তুপ জমে আছে, যা থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

এ বিষয়ে নাসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আলমগীর হিরণ জানান, কিছু এলাকায় বর্জ্য অপসারণে দেরি হলেও তা নিয়মিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওয়ার্ড পর্যায়ের সংগ্রহ ব্যবস্থায় কিছু গাফিলতি রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন।

নগরবাসীর দাবি, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, কঠোর নজরদারি এবং নাগরিক সচেতনতা না বাড়ালে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের উদ্যোগ বাস্তবে সফল হবে না।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ