নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | ৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সময় নষ্ট না করে তাদের অপরাধ দমনে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং, যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে প্রশাসন কাজ করবে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে কিছু মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে রায়হান কবির জানান, জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত এক মাসে জেলা থেকে পাঁচটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নারী ও শিশু আদালতসহ নারীদের সহায়তায় গঠিত বিভিন্ন কমিটিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনভোগান্তি না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের সব সেবার কেন্দ্রবিন্দু হলো জনগণ। একটি পরিবারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট চায়, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সেবা দেয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো সেবা দেয় এবং প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। সব প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণকে সেবা দেওয়া।
এ কারণে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে রায়হান কবির বলেন, এ জেলার মানুষ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সহনশীল। রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনেক ক্ষেত্রে সহনশীলতার পরিচয় দেন। অন্য অনেক এলাকার তুলনায় নারায়ণগঞ্জে এ বিষয়ে আন্তরিকতা রয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পুলিশ যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতেই ব্যস্ত থাকে, তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। তাই নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে পুলিশ অপরাধ দমনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ধীরে ধীরে পুলিশ পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ স্বাভাবিক ও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারলে জেলার অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, পুলিশ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি আইনগত ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতা দিতে হবে। এতে পুলিশ আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | ৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সময় নষ্ট না করে তাদের অপরাধ দমনে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার মনিটরিং, যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে প্রশাসন কাজ করবে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তবে কিছু মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে রায়হান কবির জানান, জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজেট পাওয়া গেলে দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত এক মাসে জেলা থেকে পাঁচটি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নারী ও শিশু আদালতসহ নারীদের সহায়তায় গঠিত বিভিন্ন কমিটিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনভোগান্তি না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের সব সেবার কেন্দ্রবিন্দু হলো জনগণ। একটি পরিবারের কাছে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট চায়, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা সেবা দেয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো সেবা দেয় এবং প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। সব প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণকে সেবা দেওয়া।
এ কারণে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে রায়হান কবির বলেন, এ জেলার মানুষ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সহনশীল। রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনেক ক্ষেত্রে সহনশীলতার পরিচয় দেন। অন্য অনেক এলাকার তুলনায় নারায়ণগঞ্জে এ বিষয়ে আন্তরিকতা রয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পুলিশ যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মেটাতেই ব্যস্ত থাকে, তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। তাই নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধান করে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে পুলিশ অপরাধ দমনে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ধীরে ধীরে পুলিশ পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ স্বাভাবিক ও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারলে জেলার অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, পুলিশ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসা পর্যন্ত প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি আইনগত ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতা দিতে হবে। এতে পুলিশ আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, জেলা সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোহাম্মদ মশিউর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন