রাজনৈতিক অর্থায়ন, নির্বাচনী ব্যয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া গণতান্ত্রিক জবাবদিহি পূর্ণতা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়নের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার CIRDAP Auditorium-এ The Bangladesh Dialogue (TBD) ও Voices for Interactive Choice and Empowerment (VOICE)-এর যৌথ আয়োজনে ‘Strengthening Democratic Accountability: Political Finance & Asset Transparency’ শীর্ষক টাউন হল ডায়ালগে বক্তব্য দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের ‘Parliamentarians’ Take’ পর্বে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা। আলোচনায় আরও অংশ নেন Netra News-এর Executive Editor নাজমুল আহসান এবং North South University-এর Assistant Professor ড. জাভেদ হোসাইন।
আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী ব্যয়, রাজনৈতিক অর্থায়ন, সম্পদের স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এমপি আল আমিন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানো নির্বাচনী ব্যয় নয়, রাজনৈতিক প্রচার, লোকবল এবং বিভিন্ন প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ডে যে অর্থ ব্যয় হয়, তার প্রকৃত চিত্রও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আল আমিন জানান, বড় অঙ্কের কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক অর্থের ওপর নির্ভর না করে তিনি ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর নির্বাচনী অর্থায়নের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারের অর্থের ওপর একজন রাজনৈতিক প্রার্থী অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দায় তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক অর্থায়ন কেবল অর্থের উৎসের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়ও সরাসরি যুক্ত।
সম্পদের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে আল আমিন বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজেদের সম্পদ এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকার দায় রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বৈধ ব্যবসা ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জবাবদিহির পাশাপাশি আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল বা দলীয়করণপ্রবণ হয়ে পড়লে শুধু ব্যক্তিকে দায়ী করে রাজনৈতিক অর্থায়ন ও সম্পদের স্বচ্ছতার কাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
আলোচনায় রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, সম্পদ প্রকাশ এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয় হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনৈতিক অর্থায়ন, নির্বাচনী ব্যয় ও সম্পদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ছাড়া গণতান্ত্রিক জবাবদিহি পূর্ণতা পায় না বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অর্থায়নের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার CIRDAP Auditorium-এ The Bangladesh Dialogue (TBD) ও Voices for Interactive Choice and Empowerment (VOICE)-এর যৌথ আয়োজনে ‘Strengthening Democratic Accountability: Political Finance & Asset Transparency’ শীর্ষক টাউন হল ডায়ালগে বক্তব্য দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের ‘Parliamentarians’ Take’ পর্বে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের পাশাপাশি বক্তব্য দেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা। আলোচনায় আরও অংশ নেন Netra News-এর Executive Editor নাজমুল আহসান এবং North South University-এর Assistant Professor ড. জাভেদ হোসাইন।
আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী ব্যয়, রাজনৈতিক অর্থায়ন, সম্পদের স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এমপি আল আমিন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানো নির্বাচনী ব্যয় নয়, রাজনৈতিক প্রচার, লোকবল এবং বিভিন্ন প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ডে যে অর্থ ব্যয় হয়, তার প্রকৃত চিত্রও জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আল আমিন জানান, বড় অঙ্কের কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক অর্থের ওপর নির্ভর না করে তিনি ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর নির্বাচনী অর্থায়নের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারের অর্থের ওপর একজন রাজনৈতিক প্রার্থী অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দায় তৈরি হতে পারে। তাই রাজনৈতিক অর্থায়ন কেবল অর্থের উৎসের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়ও সরাসরি যুক্ত।
সম্পদের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে আল আমিন বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজেদের সম্পদ এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকার দায় রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বৈধ ব্যবসা ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জবাবদিহির পাশাপাশি আইনের শাসন, নিরপেক্ষতা এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল বা দলীয়করণপ্রবণ হয়ে পড়লে শুধু ব্যক্তিকে দায়ী করে রাজনৈতিক অর্থায়ন ও সম্পদের স্বচ্ছতার কাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
আলোচনায় রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা, সম্পদ প্রকাশ এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয় হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। তাঁর মতে, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন