কিশোর গ্যাং, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা গড়ে তুলতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি জেলার কিশোর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
কিশোর বয়সকে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় হিসেবে উল্লেখ করে হাবিবুর রহমান বলেন, পারিবারিক অসচেতনতা, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব, খারাপ সঙ্গ ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর মতে, একদিকে দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থের সহজলভ্যতা ও অভিভাবকের নজরদারির ঘাটতিও কিশোরদের মাদক ও অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পারিবারিক তত্ত্বাবধানের ঘাটতিকেও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, ‘আজকের শিশু-কিশোরই আগামী দিনের কর্ণধার। তারা যদি সুষ্ঠু, মানবিক ও মাদকমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।’
মাদকাসক্তির সঙ্গে কিশোর অপরাধের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন এসপি হাবিবুর। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় কিশোররা গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কিশোর সন্ত্রাস বড় ধরনের সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারের দায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন পুলিশ সুপার। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও পাঠাগারমুখী করার পাশাপাশি ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কিশোর অপরাধ দমন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়। এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বর্তমান শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে ভবিষ্যতের নারায়ণগঞ্জ হবে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুখী ও সমৃদ্ধ একটি জেলা।’

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কিশোর গ্যাং, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা। মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা গড়ে তুলতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি জেলার কিশোর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে পুলিশ সুপার বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
কিশোর বয়সকে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় হিসেবে উল্লেখ করে হাবিবুর রহমান বলেন, পারিবারিক অসচেতনতা, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব, খারাপ সঙ্গ ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁর মতে, একদিকে দারিদ্র্যের কারণে মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থের সহজলভ্যতা ও অভিভাবকের নজরদারির ঘাটতিও কিশোরদের মাদক ও অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং পারিবারিক তত্ত্বাবধানের ঘাটতিকেও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, ‘আজকের শিশু-কিশোরই আগামী দিনের কর্ণধার। তারা যদি সুষ্ঠু, মানবিক ও মাদকমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।’
মাদকাসক্তির সঙ্গে কিশোর অপরাধের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন এসপি হাবিবুর। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় কিশোররা গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে কিশোর সন্ত্রাস বড় ধরনের সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারের দায়িত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা ও যথাযথ পরিচর্যার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন পুলিশ সুপার। তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও পাঠাগারমুখী করার পাশাপাশি ছিন্নমূল শিশুদের পুনর্বাসন এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কিশোর অপরাধ দমন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়। এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বর্তমান শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে ভবিষ্যতের নারায়ণগঞ্জ হবে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সুখী ও সমৃদ্ধ একটি জেলা।’

আপনার মতামত লিখুন