রাতের আঁধারে বারবার ময়লা-আবর্জনা ফেলে সড়কের পরিবেশ নষ্ট করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোডের একটি অংশে ফের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এসপি অফিসের সামনে থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের ময়লার স্তূপ সরিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দীর্ঘ সড়কজুড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড লিংক রোডের এসপি অফিসের সামনের অংশ থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ময়লা ফেলা হচ্ছিল। এতে সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল।
এর আগে একই সড়কে ময়লার স্তূপ জমে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছিল। তখন সড়কে ময়লা না ফেলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে সেই নির্দেশনার পরও কে বা কারা ফের রাতের আঁধারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পুনরায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে পুরো অংশে অভিযান চালিয়ে ময়লা অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এখানে ময়লা ফেলে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়া আমাদের অঙ্গীকার। এসপি অফিসের সামনের প্রধান সড়কে বারবার ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ইতোমধ্যে রাস্তাটি পরিষ্কার করেছি।”
তিনি আরও বলেন, সবাইকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এরপরও কেউ দিনে বা রাতের আঁধারে ওই এলাকায় ময়লা ফেললে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিসি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এজন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এসপি অফিস থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত পুরো সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় এখানে ময়লা ফেলার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এলাকাটি নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। নাগরিকদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তায় নয়, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলুন। আসুন, আমরা সকলে মিলে পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলি।”

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
রাতের আঁধারে বারবার ময়লা-আবর্জনা ফেলে সড়কের পরিবেশ নষ্ট করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোডের একটি অংশে ফের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এসপি অফিসের সামনে থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের ময়লার স্তূপ সরিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দীর্ঘ সড়কজুড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড লিংক রোডের এসপি অফিসের সামনের অংশ থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ময়লা ফেলা হচ্ছিল। এতে সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল।
এর আগে একই সড়কে ময়লার স্তূপ জমে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছিল। তখন সড়কে ময়লা না ফেলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।
তবে সেই নির্দেশনার পরও কে বা কারা ফের রাতের আঁধারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পুনরায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে পুরো অংশে অভিযান চালিয়ে ময়লা অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এখানে ময়লা ফেলে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দায়ীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়া আমাদের অঙ্গীকার। এসপি অফিসের সামনের প্রধান সড়কে বারবার ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ইতোমধ্যে রাস্তাটি পরিষ্কার করেছি।”
তিনি আরও বলেন, সবাইকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এরপরও কেউ দিনে বা রাতের আঁধারে ওই এলাকায় ময়লা ফেললে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিসি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এজন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এসপি অফিস থেকে চানমারী মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত পুরো সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় এখানে ময়লা ফেলার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এলাকাটি নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। নাগরিকদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তায় নয়, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলুন। আসুন, আমরা সকলে মিলে পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলি।”

আপনার মতামত লিখুন