বি পি নিউজ ২৪

আলোচিত মনোয়ার মেম্বার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ফারুক প্রকাশ্যে থাকলেও ২২ দিনে গ্রেপ্তার হয়নি, ক্ষোভ এলাকাবাসীর



আলোচিত মনোয়ার মেম্বার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ফারুক প্রকাশ্যে থাকলেও ২২ দিনে গ্রেপ্তার হয়নি, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর এলাকায় মেম্বার মনোয়ারের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ ফারুক প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর থানার আওতাধীন বালিগাঁও এলাকার বাসিন্দা আমানউল্লাহ (৪০) এর মালিকানাধীন জমিতে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মনোয়ার মেম্বারের পারিবারিক মাটির ব্যবসার সূত্র ধরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় আমানউল্লাহর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।

পরবর্তীতে আমানউল্লাহ বিষয়টি মোবাইল ফোনে মনোয়ার মেম্বারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সেখানে অভিযুক্ত ডাকাত মামুন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে মনোয়ার মেম্বারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন গং ও অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনোয়ার মেম্বারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মনোয়ার মেম্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গুরুতর আহত মনোয়ার মেম্বার ও আমানউল্লাহকে উদ্ধার করে মদনপুরের আল-বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা মনোয়ার মেম্বারকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে তার কয়েকটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আমানউল্লাহ কিছুটা সুস্থ হয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে মনোয়ার মেম্বারের ভাই দেলোয়ার বাদী হয়ে বন্দর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুজু করা হয়। মামলা নম্বর-৩১। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৮৫/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ ফারুক প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লক্ষণখোলা এলাকার বাসিন্দা মৃত ইব্রাহিমের ছেলে মোঃ ফারুক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তার স্ত্রী আইরিন সুলতানা ওরফে সাথিকেও স্থানীয়রা ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ফারুক ও তার স্ত্রী বিভিন্ন কৌশলে টেকনাফ, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে স্থানীয় যুবকদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এভাবে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, অসাধু কিছু ব্যক্তির সহায়তায় ফারুক ও তার স্ত্রী ভদ্রবেশে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফারুকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত মামুনসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন মুছাপুর এলাকার বাসিন্দারা। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


আলোচিত মনোয়ার মেম্বার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ফারুক প্রকাশ্যে থাকলেও ২২ দিনে গ্রেপ্তার হয়নি, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর এলাকায় মেম্বার মনোয়ারের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ ফারুক প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।


জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বন্দর থানার আওতাধীন বালিগাঁও এলাকার বাসিন্দা আমানউল্লাহ (৪০) এর মালিকানাধীন জমিতে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মনোয়ার মেম্বারের পারিবারিক মাটির ব্যবসার সূত্র ধরে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় আমানউল্লাহর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।


পরবর্তীতে আমানউল্লাহ বিষয়টি মোবাইল ফোনে মনোয়ার মেম্বারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সেখানে অভিযুক্ত ডাকাত মামুন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে মনোয়ার মেম্বারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন গং ও অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মনোয়ার মেম্বারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মনোয়ার মেম্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।


এ সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গুরুতর আহত মনোয়ার মেম্বার ও আমানউল্লাহকে উদ্ধার করে মদনপুরের আল-বারাকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা মনোয়ার মেম্বারকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। সেখানে তার কয়েকটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আমানউল্লাহ কিছুটা সুস্থ হয়েছেন।


ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে মনোয়ার মেম্বারের ভাই দেলোয়ার বাদী হয়ে বন্দর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুজু করা হয়। মামলা নম্বর-৩১। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৮৫/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে মামলার ৯ নম্বর আসামি মোঃ ফারুক প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লক্ষণখোলা এলাকার বাসিন্দা মৃত ইব্রাহিমের ছেলে মোঃ ফারুক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তার স্ত্রী আইরিন সুলতানা ওরফে সাথিকেও স্থানীয়রা ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


এলাকাবাসীর দাবি, ফারুক ও তার স্ত্রী বিভিন্ন কৌশলে টেকনাফ, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে স্থানীয় যুবকদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এভাবে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এছাড়া, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় সচেতন মহল।


গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, অসাধু কিছু ব্যক্তির সহায়তায় ফারুক ও তার স্ত্রী ভদ্রবেশে মাদক ব্যবসাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ফারুকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।


এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত মামুনসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন মুছাপুর এলাকার বাসিন্দারা। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ