জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আবুল বাশার। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাষাঢ়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবুল বাশার দাবি করেন, আন্দোলনের দিন সকালে তিনি ও তার ভাই বন্দর থানার কুশিয়ারা এলাকার বাসা থেকে চাষাঢ়া মোড়ে যোগ দিতে যান। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর বিজিবি, পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া চালায়। পরে মিশনপাড়া এলাকায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার পর ফের চাষাঢ়ার দিকে আসার সময় ল্যাবএইড হাসপাতালের গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া একটি গুলি আবুল হাসান স্বজনের বুকের বাঁ পাশে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, আহত স্বজনকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার পর তিনি প্রথমেই জানতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে কি না। তাকে জানানো হয় তিনি ভারত চলে গেছেন। এ কথা শুনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে মুচকি হাসেন তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনের সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন ইমতিনান ওসমান অয়ন, আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্র।
এর আগে গত ১৩ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় ছয়জন নিহত হন। ২১ জুলাই ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরও দুইজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান হত্যার ঘটনাও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আবুল বাশার। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাষাঢ়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আবুল হাসান স্বজনের বড় ভাই।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবুল বাশার দাবি করেন, আন্দোলনের দিন সকালে তিনি ও তার ভাই বন্দর থানার কুশিয়ারা এলাকার বাসা থেকে চাষাঢ়া মোড়ে যোগ দিতে যান। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর বিজিবি, পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া চালায়। পরে মিশনপাড়া এলাকায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার পর ফের চাষাঢ়ার দিকে আসার সময় ল্যাবএইড হাসপাতালের গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া একটি গুলি আবুল হাসান স্বজনের বুকের বাঁ পাশে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, আহত স্বজনকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার পর তিনি প্রথমেই জানতে চান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে কি না। তাকে জানানো হয় তিনি ভারত চলে গেছেন। এ কথা শুনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে মুচকি হাসেন তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনের সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন ইমতিনান ওসমান অয়ন, আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্র।
এর আগে গত ১৩ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় ছয়জন নিহত হন। ২১ জুলাই ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরও দুইজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান হত্যার ঘটনাও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে এবং তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন