বি পি নিউজ ২৪

তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে হা'মলার তদন্ত ও জড়িতদের ব'হিষ্কার দাবি ছাত্রশক্তির


প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে হা'মলার তদন্ত ও জড়িতদের ব'হিষ্কার দাবি ছাত্রশক্তির

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংঘর্ষের পর ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ শাখা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বহিষ্কার এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৫ আগস্ট তোলারাম কলেজের পদ্মা মিলনায়তনে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি দল ছাত্রাবাসে গিয়ে হামলা চালায়। তার দাবি, তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে।

মাহফুজ খান বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে ছাত্রাবাসের নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে ভেতরে ঢোকে। পরে বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রশক্তির দুই সমর্থক ও তিন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, ঘটনাটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর বিষয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার ও আইনের আওতায় আনা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মাহফুজ খান বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব সারফরাজ হক সজীব, মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম, মহানগরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ান।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে হা'মলার তদন্ত ও জড়িতদের ব'হিষ্কার দাবি ছাত্রশক্তির

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংঘর্ষের পর ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ শাখা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বহিষ্কার এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৫ আগস্ট তোলারাম কলেজের পদ্মা মিলনায়তনে গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি দল ছাত্রাবাসে গিয়ে হামলা চালায়। তার দাবি, তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিকের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে।

মাহফুজ খান বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে ছাত্রাবাসের নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে ভেতরে ঢোকে। পরে বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রশক্তির দুই সমর্থক ও তিন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, ঘটনাটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর বিষয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার ও আইনের আওতায় আনা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মাহফুজ খান বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব সারফরাজ হক সজীব, মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম, মহানগরের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ান।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ