নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পরবর্তী নির্বাচন আগামী জানুয়ারিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির পরিধি বাড়িয়ে নতুন দুটি সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টির অনুমোদন দিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমিতির আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৮ আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন পরবর্তী নির্বাচন সেপ্টেম্বরে আয়োজনের কথা থাকলেও পরে আগের সংবিধান অনুযায়ী জানুয়ারিতে নির্বাচন করার প্রস্তাব আসে।
এইচ এম আনোয়ার প্রধান জানান, এজিএমে জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার পর মঙ্গলবারের বিশেষ সাধারণ সভায় সেটি অনুমোদন পেয়েছে। ফলে আগামী জানুয়ারিতেই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে ১৭টি পদ রয়েছে। ইজিএমে আইনজীবীদের সম্মতিতে এর সঙ্গে আরও দুটি পদ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পদ দুটি হলো আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। পাশাপাশি আইনজীবীদের জন্য মেডিক্যাল ফান্ডের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
জামায়াতপন্থী আইনজীবী এম এ হাফিজ মোল্লা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। গত বছর বিশেষ পরিস্থিতিতে ২৮ আগস্ট নির্বাচন হওয়ায় এবার আগের প্রচলিত সময়সূচিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচন জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ গালিব। তার ভাষ্য, নির্বাচন পেছাতে হলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কারণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সভায় নির্বাচন পেছানোর পক্ষে এমন কোনো যৌক্তিক কারণ উপস্থাপন করা হয়নি।
গালিবের অভিযোগ, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আরও কয়েক মাস দায়িত্বে রাখার সুযোগ তৈরি করতেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন কোনো নির্দেশনাও নেই, যার কারণে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়োজন পড়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের ফলে সমিতির অর্থও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।
বিশেষ সাধারণ সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনা করেন গোলাম মোর্শেদ গালিব। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন সভায় সাধারণত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকার সুযোগ পেলেও মঙ্গলবারের বিশেষ সাধারণ সভায় তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পরবর্তী নির্বাচন আগামী জানুয়ারিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির পরিধি বাড়িয়ে নতুন দুটি সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টির অনুমোদন দিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমিতির আইনজীবীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৮ আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন পরবর্তী নির্বাচন সেপ্টেম্বরে আয়োজনের কথা থাকলেও পরে আগের সংবিধান অনুযায়ী জানুয়ারিতে নির্বাচন করার প্রস্তাব আসে।
এইচ এম আনোয়ার প্রধান জানান, এজিএমে জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার পর মঙ্গলবারের বিশেষ সাধারণ সভায় সেটি অনুমোদন পেয়েছে। ফলে আগামী জানুয়ারিতেই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে ১৭টি পদ রয়েছে। ইজিএমে আইনজীবীদের সম্মতিতে এর সঙ্গে আরও দুটি পদ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পদ দুটি হলো আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। পাশাপাশি আইনজীবীদের জন্য মেডিক্যাল ফান্ডের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।
জামায়াতপন্থী আইনজীবী এম এ হাফিজ মোল্লা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সাধারণত প্রতিবছর জানুয়ারি মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। গত বছর বিশেষ পরিস্থিতিতে ২৮ আগস্ট নির্বাচন হওয়ায় এবার আগের প্রচলিত সময়সূচিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নির্বাচন জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট গোলাম মোর্শেদ গালিব। তার ভাষ্য, নির্বাচন পেছাতে হলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কারণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সভায় নির্বাচন পেছানোর পক্ষে এমন কোনো যৌক্তিক কারণ উপস্থাপন করা হয়নি।
গালিবের অভিযোগ, বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আরও কয়েক মাস দায়িত্বে রাখার সুযোগ তৈরি করতেই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন কোনো নির্দেশনাও নেই, যার কারণে নির্বাচন বিলম্বিত করার প্রয়োজন পড়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কোনো নির্দেশনা ছাড়াই নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের ফলে সমিতির অর্থও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।
বিশেষ সাধারণ সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনা করেন গোলাম মোর্শেদ গালিব। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন সভায় সাধারণত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকার সুযোগ পেলেও মঙ্গলবারের বিশেষ সাধারণ সভায় তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন