বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও ডিকার্বনাইজেশন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে শিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনে সংগঠনটি ও Ethical Trading Initiative (ETI)-এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘Rapid Energy Transition Conference: Powering Security, Sustainability & Growth in Bangladesh RMG’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও পরিবেশগত মানদণ্ড দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় তৈরি পোশাক শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখলে হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নিতে হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কারখানার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, সবুজ অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বিকেএমইএ পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্য বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পকে দ্রুত ডিকার্বনাইজেশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এ সময় বিকেএমইএর পরিচালক মনসুর আহমেদ, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া ও এম. ইশফাক আহসান জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্যাসের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কারখানার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে ব্যবসাকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, তা এখন থেকেই নির্ধারণ করে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কারখানা মালিক ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতি আহ্বান জানান বিকেএমইএ পরিচালক মিনহাজুল হক। তিনি Digital Product Passport (DPP), Corporate Sustainability Due Diligence Directive (CSDDD) এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন sustainability requirements মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য পরিবেশগত ও কার্বন-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, সৌরবিদ্যুতের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা, বৈশ্বিক ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সবুজ অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কারখানা পর্যায়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় অর্থায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা এবং ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোকে জ্বালানি রূপান্তরের সুযোগের আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বিকেএমইএ পরিচালক মিনহাজুল হক জ্বালানি রূপান্তরের পথে অর্থায়নসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনে উঠে আসা বিষয়গুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও কারখানাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী সম্মেলনে বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ৫৩টি কারখানার প্রতিনিধি, Ethical Trading Initiative (ETI), বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেবাদাতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭১ জন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও ডিকার্বনাইজেশন এখন আর কেবল sustainability agenda-এর বিষয় নয়। এগুলো শিল্পের business resilience, energy security এবং বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও ডিকার্বনাইজেশন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে শিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএ ভবনে সংগঠনটি ও Ethical Trading Initiative (ETI)-এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘Rapid Energy Transition Conference: Powering Security, Sustainability & Growth in Bangladesh RMG’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও পরিবেশগত মানদণ্ড দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় তৈরি পোশাক শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখলে হবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নিতে হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কারখানার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, সবুজ অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বিকেএমইএ পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্য বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পকে দ্রুত ডিকার্বনাইজেশন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এ সময় বিকেএমইএর পরিচালক মনসুর আহমেদ, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া ও এম. ইশফাক আহসান জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্যাসের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কারখানার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে ব্যবসাকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, তা এখন থেকেই নির্ধারণ করে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য কারখানা মালিক ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতি আহ্বান জানান বিকেএমইএ পরিচালক মিনহাজুল হক। তিনি Digital Product Passport (DPP), Corporate Sustainability Due Diligence Directive (CSDDD) এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন sustainability requirements মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য পরিবেশগত ও কার্বন-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, সৌরবিদ্যুতের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা, বৈশ্বিক ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সবুজ অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কারখানা পর্যায়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় অর্থায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা এবং ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলোকে জ্বালানি রূপান্তরের সুযোগের আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বিকেএমইএ পরিচালক মিনহাজুল হক জ্বালানি রূপান্তরের পথে অর্থায়নসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনে উঠে আসা বিষয়গুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও কারখানাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী সম্মেলনে বিকেএমইএর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ৫৩টি কারখানার প্রতিনিধি, Ethical Trading Initiative (ETI), বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সেবাদাতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞসহ মোট ৭১ জন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও ডিকার্বনাইজেশন এখন আর কেবল sustainability agenda-এর বিষয় নয়। এগুলো শিল্পের business resilience, energy security এবং বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন