নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ডিক্রীরচর সেতু নির্মাণের উদ্যোগে অগ্রগতির আভাস দেখা যাচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন ধরে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কার্যক্রম চলার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিক্রীরচর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে আসেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁরা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ ও মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক ফেরদাউস আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত একজন সিনিয়র ব্রিজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এছাড়াও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মান্নান, রওশন আলী, আব্দুল ওহাব ও মুক্তার হোসেন। এ ছাড়া এলাকার জায়েদ সরদার, নাসিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, উপযুক্ত অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রকৌশলগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। তবে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি, ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার মানুষের কাছে ডিক্রীরচর সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার নাম। নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করা, সময় ও ভোগান্তি কমানো এবং দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচলে সেতুটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ বাড়তে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক পরিদর্শন এবং সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আলীরটেক ও বক্তাবলীর বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে তা শুধু দুই এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগই কমাবে না, বরং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ডিক্রীরচর সেতু নির্মাণের উদ্যোগে অগ্রগতির আভাস দেখা যাচ্ছে। সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন ধরে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কার্যক্রম চলার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিক্রীরচর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে আসেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁরা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ ও মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক ফেরদাউস আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত একজন সিনিয়র ব্রিজ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। এছাড়াও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মান্নান, রওশন আলী, আব্দুল ওহাব ও মুক্তার হোসেন। এ ছাড়া এলাকার জায়েদ সরদার, নাসিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, উপযুক্ত অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রকৌশলগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। তবে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি, ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার মানুষের কাছে ডিক্রীরচর সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার নাম। নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ করা, সময় ও ভোগান্তি কমানো এবং দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচলে সেতুটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় পণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ বাড়তে পারে। ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক পরিদর্শন এবং সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আলীরটেক ও বক্তাবলীর বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে তা শুধু দুই এলাকার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগই কমাবে না, বরং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন