নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা ও সেবন বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁতখানা রিফুজি পাড়া, এনায়েতনগর কুয়াশা পট্টি, তাঁতখানা হিন্দু পাড়া মাঠ, নিট ফেয়ার লিমিটেড (জিএফ গার্মেন্টস)–এর পিছনের গলি, মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন অলিগলি, এনায়েতনগর আবুল আজিজ স্কুল সংলগ্ন শাখা রাস্তা ও মোল্লা বাড়ি রোড, দক্ষিণ এনায়েতনগর কুয়াশা পট্টি, সৈয়দপাড়া কাঠেরপুল, শান্তিনগর, ইসলামনগর, ধনকুন্তা এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, আইলপাড়া ও নতুন আইলপাড়া, এনায়েতনগর গলির রাস্তা, ইবরাহীম প্রিন্টের গলি, জুলফিকার রুলিং মিলের গলি এবং তাঁতখানা বিএনপি অফিসের বিপরীত পাশের গলিতে এ ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার দাবি, মাদক বিক্রির পাশাপাশি কিছু মাদকসেবী অর্থের যোগান দিতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাত ১১টার পর তাঁতখানা ও জুলফিকার এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় উদ্যোগ কামনা করেছেন, যাতে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাদক সিন্ডিকেটগুলোর এই দৌরাত্ম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, "আমাদের চোখের সামনেই অনেক মেধাবী ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ছোটখাটো দোকান ও অলিগলিতে যেভাবে মাদকের সহজলভ্যতা বেড়েছে, তাতে সন্তানকে একা বাইরে পাঠাতেও আমরা ভয় পাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক এতই বিস্তৃত যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।"
মাদক ও ছিনতাইয়ের কারণে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত দশটার পর থেকে তাঁতখানা ও এনায়েতনগর রোডে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইকারীরা রিকশাযাত্রীসহ পথচারীদের টার্গেট করছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, দোকানের সামনেই মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে ক্রেতারা আসতে অস্বস্তি বোধ করেন, যা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও কেন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে পার পেয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী এখন কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নন। তারা চায়:
দ্রুত কার্যকর অভিযান: মাদক বিক্রির স্পটগুলোতে সরাসরি অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা।
টহল বৃদ্ধি: সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা।
সিসিটিভি স্থাপন: অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো।
জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা: এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা ও সেবন বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁতখানা রিফুজি পাড়া, এনায়েতনগর কুয়াশা পট্টি, তাঁতখানা হিন্দু পাড়া মাঠ, নিট ফেয়ার লিমিটেড (জিএফ গার্মেন্টস)–এর পিছনের গলি, মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন বিভিন্ন অলিগলি, এনায়েতনগর আবুল আজিজ স্কুল সংলগ্ন শাখা রাস্তা ও মোল্লা বাড়ি রোড, দক্ষিণ এনায়েতনগর কুয়াশা পট্টি, সৈয়দপাড়া কাঠেরপুল, শান্তিনগর, ইসলামনগর, ধনকুন্তা এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, আইলপাড়া ও নতুন আইলপাড়া, এনায়েতনগর গলির রাস্তা, ইবরাহীম প্রিন্টের গলি, জুলফিকার রুলিং মিলের গলি এবং তাঁতখানা বিএনপি অফিসের বিপরীত পাশের গলিতে এ ধরনের কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার দাবি, মাদক বিক্রির পাশাপাশি কিছু মাদকসেবী অর্থের যোগান দিতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাত ১১টার পর তাঁতখানা ও জুলফিকার এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় উদ্যোগ কামনা করেছেন, যাতে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, মাদক সিন্ডিকেটগুলোর এই দৌরাত্ম্যের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, "আমাদের চোখের সামনেই অনেক মেধাবী ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ছোটখাটো দোকান ও অলিগলিতে যেভাবে মাদকের সহজলভ্যতা বেড়েছে, তাতে সন্তানকে একা বাইরে পাঠাতেও আমরা ভয় পাচ্ছি। মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক এতই বিস্তৃত যে, কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।"
মাদক ও ছিনতাইয়ের কারণে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত দশটার পর থেকে তাঁতখানা ও এনায়েতনগর রোডে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইকারীরা রিকশাযাত্রীসহ পথচারীদের টার্গেট করছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, দোকানের সামনেই মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে ক্রেতারা আসতে অস্বস্তি বোধ করেন, যা তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও কেন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা প্রায়ই প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে পার পেয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী এখন কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নন। তারা চায়:
দ্রুত কার্যকর অভিযান: মাদক বিক্রির স্পটগুলোতে সরাসরি অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা।
টহল বৃদ্ধি: সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল দল মোতায়েন করা।
সিসিটিভি স্থাপন: অপরাধ প্রবণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নজরদারি বাড়ানো।
জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা: এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা।

আপনার মতামত লিখুন