নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত স্বপন ও ইকবালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মতো এখনো অর্থের জোরে স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে তারা এলাকায় একচ্ছত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। তাদের এই অদৃশ্য শক্তির প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি এবং পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পূর্বে এই দুই নেতা স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে জামপুরবাসীর ওপর নানা নির্যাতন চালিয়ে আসতেন। সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু এবং সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ছত্রছায়ায় থেকে তারা নির্বাচনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও অর্থের জোরে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বপন ও ইকবালের মূল পেশা এখন মামলা বাণিজ্য ও ভূমিদস্যুতা। সম্প্রতি জামপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে তাকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। ১২-১৩ বছর আগের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবিকে পুঁজি করে জাকির হোসেনকে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ঘটনায় পুরো সোনারগাঁয়ের তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু মামলা বাণিজ্য নয়, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুলাই স্বপন ও ইকবালের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় পনির হোসেন পিন্টুর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ওপর হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পনির হোসেন পিন্টু সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, স্বপন ও ইকবাল বিগত সরকারের সময়ে ছাত্র আন্দোলন দমনের অন্যতম অর্থ যোগানদাতা ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তাদের সরাসরি ছাত্র হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো তাদের প্ররোচনায় নিরীহ বিএনপি নেতাদের মিথ্যা মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের নাকের ডগায় এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে এই দুই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
তালতলা ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জসীমউদ্দিন বলেন, জাকির হোসেনের সাবেক এমপির সাথে ছবি দেখে গ্রেপ্তার করেছি। তবে সে যে শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। স্বপন ও ইকবালের বিষয়টি আমার জানা ছিলো না কাল রাতে কিছু ছবি ও ভিডিও পেয়েছি তাদের। তথ্য যাচাই বাছা চলছে পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবো। জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইকবালের ষড়যন্ত্র আছে ও একলক্ষ টাকা অর্থবানিজ্য হয়েছে এমন অভিযোগের উত্তরে তিনি জানান এই তথ্য সম্পুর্ণ মিথ্যে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি৷

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দোসর খ্যাত স্বপন ও ইকবালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মতো এখনো অর্থের জোরে স্থানীয় পুলিশকে ম্যানেজ করে তারা এলাকায় একচ্ছত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। তাদের এই অদৃশ্য শক্তির প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি এবং পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পূর্বে এই দুই নেতা স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে জামপুরবাসীর ওপর নানা নির্যাতন চালিয়ে আসতেন। সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু এবং সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ছত্রছায়ায় থেকে তারা নির্বাচনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও অর্থের জোরে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বপন ও ইকবালের মূল পেশা এখন মামলা বাণিজ্য ও ভূমিদস্যুতা। সম্প্রতি জামপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেনের সঙ্গে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক জসীম উদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে তাকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। ১২-১৩ বছর আগের একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবিকে পুঁজি করে জাকির হোসেনকে আওয়ামী লীগ নেতা বানিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর ঘটনায় পুরো সোনারগাঁয়ের তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু মামলা বাণিজ্য নয়, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুলাই স্বপন ও ইকবালের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় পনির হোসেন পিন্টুর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ওপর হামলা চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় পনির হোসেন পিন্টু সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, স্বপন ও ইকবাল বিগত সরকারের সময়ে ছাত্র আন্দোলন দমনের অন্যতম অর্থ যোগানদাতা ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তাদের সরাসরি ছাত্র হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো তাদের প্ররোচনায় নিরীহ বিএনপি নেতাদের মিথ্যা মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের নাকের ডগায় এমন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে এই দুই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
তালতলা ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জসীমউদ্দিন বলেন, জাকির হোসেনের সাবেক এমপির সাথে ছবি দেখে গ্রেপ্তার করেছি। তবে সে যে শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। স্বপন ও ইকবালের বিষয়টি আমার জানা ছিলো না কাল রাতে কিছু ছবি ও ভিডিও পেয়েছি তাদের। তথ্য যাচাই বাছা চলছে পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবো। জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইকবালের ষড়যন্ত্র আছে ও একলক্ষ টাকা অর্থবানিজ্য হয়েছে এমন অভিযোগের উত্তরে তিনি জানান এই তথ্য সম্পুর্ণ মিথ্যে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি৷

আপনার মতামত লিখুন