কোনো ধরনের গণশুনানি বা জনমত গ্রহণ ছাড়াই প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিকভাবে এ কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা যাবে না। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় বিদ্যুৎ বিভাগকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
বৈঠকে ডিপিডিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. হানিফ, আইসিটি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামরুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (সাউথ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সহসভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনসহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতারা।
বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের মতামত বা গণশুনানি ছাড়াই একতরফাভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এটি সাবেক সরকারের সময় নেওয়া একটি প্রকল্প, যার বাস্তবায়ন নিয়ে অতীতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
তারা আরও বলেন, যেসব এলাকায় প্রিপেইড মিটার চালু হয়েছে সেখানে ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে গভীর রাতে মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক ও পরীক্ষার্থীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রিচার্জ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাটের নামে উল্লেখযোগ্য অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন রিচার্জে সার্ভার জটিলতা, কার্ড পাঞ্চের সমস্যা এবং মিটার লক হয়ে গেলে দ্রুত কারিগরি সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাধারণ মানুষ প্রিপেইড মিটার চায় না। তাই এ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ ও ভোগান্তির চিত্র প্রধানমন্ত্রীর ও জ্বালানি উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরতে চান তারা। সেই বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নতুন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
জবাবে ডিপিডিসির কর্মকর্তারা বলেন, বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলো তারা শুনেছেন এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন।

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
কোনো ধরনের গণশুনানি বা জনমত গ্রহণ ছাড়াই প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিকভাবে এ কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা যাবে না। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় বিদ্যুৎ বিভাগকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
বৈঠকে ডিপিডিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. হানিফ, আইসিটি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) কামরুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (সাউথ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সহসভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনসহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতারা।
বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের মতামত বা গণশুনানি ছাড়াই একতরফাভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এটি সাবেক সরকারের সময় নেওয়া একটি প্রকল্প, যার বাস্তবায়ন নিয়ে অতীতেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
তারা আরও বলেন, যেসব এলাকায় প্রিপেইড মিটার চালু হয়েছে সেখানে ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে গভীর রাতে মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক ও পরীক্ষার্থীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, রিচার্জ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাটের নামে উল্লেখযোগ্য অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইন রিচার্জে সার্ভার জটিলতা, কার্ড পাঞ্চের সমস্যা এবং মিটার লক হয়ে গেলে দ্রুত কারিগরি সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাধারণ মানুষ প্রিপেইড মিটার চায় না। তাই এ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ ও ভোগান্তির চিত্র প্রধানমন্ত্রীর ও জ্বালানি উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরতে চান তারা। সেই বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নতুন করে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
জবাবে ডিপিডিসির কর্মকর্তারা বলেন, বৈঠকে উত্থাপিত দাবিগুলো তারা শুনেছেন এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন।

আপনার মতামত লিখুন