বি পি নিউজ ২৪

তোলারাম কলেজের সংঘর্ষের বিচার নিয়ে প্রশ্ন মাহফুজ খানের


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তোলারাম কলেজের সংঘর্ষের বিচার নিয়ে প্রশ্ন মাহফুজ খানের

সরকারি তোলারাম কলেজকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা হলেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের আহতদের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা মাহফুজ খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ৫ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনা, পরবর্তী সমঝোতা এবং কলেজ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাহফুজ খান লিখেছেন, ৫ আগস্ট সরকারি তোলারাম কলেজকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুই সংগঠনের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের আংশিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তবে রাজনৈতিক দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা হলেও সংঘর্ষে আহত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সমর্থকের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, সেটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন মাহফুজ।

তিনি জানতে চান, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিচার বা দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া হয়েছে কি না। শুধু দুই রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ হয়ে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের বিচার থেকে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে কলেজ প্রশাসনের তদন্ত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মাহফুজ খান জানান, ঘটনার দিনই সরকারি তোলারাম কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে ১০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত সেটি প্রকাশ বা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার রয়েছে। তবে সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হওয়া কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জাতীয় ছাত্রশক্তির অবস্থান তুলে ধরে মাহফুজ খান বলেন, তারা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার নামে শুধু দুই সংগঠনের মধ্যে বিষয়টি মিটে যাবে, অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে—এমন পরিস্থিতিও তারা মেনে নেবেন না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সব ধরনের সংঘাতের রাজনীতি পরিহারের পাশাপাশি কোনো অন্যায় বা সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তোলারাম কলেজের ৫ আগস্টের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


তোলারাম কলেজের সংঘর্ষের বিচার নিয়ে প্রশ্ন মাহফুজ খানের

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারি তোলারাম কলেজকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা হলেও সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের আহতদের বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা মাহফুজ খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ৫ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনা, পরবর্তী সমঝোতা এবং কলেজ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাহফুজ খান লিখেছেন, ৫ আগস্ট সরকারি তোলারাম কলেজকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুই সংগঠনের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের আংশিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তবে রাজনৈতিক দুই সংগঠনের মধ্যে সমঝোতা হলেও সংঘর্ষে আহত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সমর্থকের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, সেটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন মাহফুজ।

তিনি জানতে চান, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিচার বা দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া হয়েছে কি না। শুধু দুই রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ হয়ে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের বিচার থেকে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টে কলেজ প্রশাসনের তদন্ত কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মাহফুজ খান জানান, ঘটনার দিনই সরকারি তোলারাম কলেজ প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে ১০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ আগস্ট পর্যন্ত সেটি প্রকাশ বা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার রয়েছে। তবে সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হওয়া কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

জাতীয় ছাত্রশক্তির অবস্থান তুলে ধরে মাহফুজ খান বলেন, তারা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার নামে শুধু দুই সংগঠনের মধ্যে বিষয়টি মিটে যাবে, অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে—এমন পরিস্থিতিও তারা মেনে নেবেন না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সব ধরনের সংঘাতের রাজনীতি পরিহারের পাশাপাশি কোনো অন্যায় বা সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তোলারাম কলেজের ৫ আগস্টের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ