বি পি নিউজ ২৪

বন্দরে খাদ্যবান্ধবের চালে ঘাটতির অভিযোগ, যাচাইয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র


প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বন্দরে খাদ্যবান্ধবের চালে ঘাটতির অভিযোগ, যাচাইয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ ওঠার পর বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ৩০ কেজির একটি বস্তা থেকে সাড়ে ৬ কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। তবে সরেজমিনে কয়েকটি বস্তা ওজন করে এমন কোনো বড় ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে এলোমেলোভাবে কয়েকটি বস্তা নির্বাচন করা হয়। ওজন করার পর দেখা যায়, কোনো কোনো বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত কম-বেশি রয়েছে। তবে অভিযোগে যেভাবে কয়েক কেজি চাল কম থাকার কথা বলা হয়েছিল, তেমন কোনো তারতম্য মেলেনি।

শুধু বস্তার ওজনেই যাচাই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিতরণকেন্দ্রে চাল নিতে আসা কয়েকজন কার্ডধারীর সঙ্গেও কথা বলা হয়। তাদের কেউই কয়েক কেজি চাল কম পাওয়ার অভিযোগ করেননি। উপস্থিত ভোক্তাদের ভাষ্য, সামান্য ওজনের পার্থক্য থাকলেও তারা বড় ধরনের কোনো ঘাটতির অভিজ্ঞতা পাননি।

এরপর কার্ডধারীদের তালিকা থেকে কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া চালের পরিমাণ সম্পর্কে জানা হয়। তারাও জানান, তারা নির্ধারিত ৩০ কেজির কাছাকাছি পরিমাণ চাল পেয়েছেন। বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষের কথা পাওয়া যায়নি।

যমুনা চাউল রাইস এজেন্সির মালিক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান বন্দর উপজেলার ১০ জন ডিলারের কাছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পৌঁছে দেয়। তাঁর দাবি, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই নিয়ম অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, কোনো ডিলার বা উপকারভোগী চালের পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ করলে সেটি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে চাল কম পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি।

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার দিদারও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ চালই বিতরণ করা হয়। কেউ চাইলে চাল নেওয়ার সময় ওজন করে নিশ্চিত হতে পারেন।

তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক কেজি চাল কম দেওয়ার যে তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কোনো ভোক্তার অভিযোগ থাকলে সরাসরি এসে যাচাই করার আহ্বানও জানান তিনি।

বন্দর সিএসডি খাদ্য গুদাম থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিতরণকেন্দ্রে এ কর্মসূচির চাল সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বস্তায় সামান্য ওজনের তারতম্য থাকলেও ৩০ কেজির পরিবর্তে কয়েক কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে উপকারভোগীরা যাতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য বিতরণের সময় নিয়মিত ওজন পরীক্ষা ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


বন্দরে খাদ্যবান্ধবের চালে ঘাটতির অভিযোগ, যাচাইয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ ওঠার পর বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ৩০ কেজির একটি বস্তা থেকে সাড়ে ৬ কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। তবে সরেজমিনে কয়েকটি বস্তা ওজন করে এমন কোনো বড় ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে এলোমেলোভাবে কয়েকটি বস্তা নির্বাচন করা হয়। ওজন করার পর দেখা যায়, কোনো কোনো বস্তায় নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত কম-বেশি রয়েছে। তবে অভিযোগে যেভাবে কয়েক কেজি চাল কম থাকার কথা বলা হয়েছিল, তেমন কোনো তারতম্য মেলেনি।

শুধু বস্তার ওজনেই যাচাই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিতরণকেন্দ্রে চাল নিতে আসা কয়েকজন কার্ডধারীর সঙ্গেও কথা বলা হয়। তাদের কেউই কয়েক কেজি চাল কম পাওয়ার অভিযোগ করেননি। উপস্থিত ভোক্তাদের ভাষ্য, সামান্য ওজনের পার্থক্য থাকলেও তারা বড় ধরনের কোনো ঘাটতির অভিজ্ঞতা পাননি।

এরপর কার্ডধারীদের তালিকা থেকে কয়েকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া চালের পরিমাণ সম্পর্কে জানা হয়। তারাও জানান, তারা নির্ধারিত ৩০ কেজির কাছাকাছি পরিমাণ চাল পেয়েছেন। বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষের কথা পাওয়া যায়নি।

যমুনা চাউল রাইস এজেন্সির মালিক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান বন্দর উপজেলার ১০ জন ডিলারের কাছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পৌঁছে দেয়। তাঁর দাবি, সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই নিয়ম অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হয়।

তিনি বলেন, কোনো ডিলার বা উপকারভোগী চালের পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ করলে সেটি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে চাল কম পাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি।

কলাগাছিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার দিদারও অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ চালই বিতরণ করা হয়। কেউ চাইলে চাল নেওয়ার সময় ওজন করে নিশ্চিত হতে পারেন।

তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক কেজি চাল কম দেওয়ার যে তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কোনো ভোক্তার অভিযোগ থাকলে সরাসরি এসে যাচাই করার আহ্বানও জানান তিনি।

বন্দর সিএসডি খাদ্য গুদাম থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিতরণকেন্দ্রে এ কর্মসূচির চাল সরবরাহ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু বস্তায় সামান্য ওজনের তারতম্য থাকলেও ৩০ কেজির পরিবর্তে কয়েক কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে উপকারভোগীরা যাতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল না পান, সে জন্য বিতরণের সময় নিয়মিত ওজন পরীক্ষা ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ