বি পি নিউজ ২৪

রূপগঞ্জে মুক্তিপণের জন্য ভাতিজাকে অপহরণের পর হত্যা, চাচার যাবজ্জীবন


প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রূপগঞ্জে মুক্তিপণের জন্য ভাতিজাকে অপহরণের পর হত্যা, চাচার যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত

রূপগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত অপহরণ ও হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মাসুম বিল্লাহ (২৯) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ একেএম রকিবুল হাসানের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মানিক মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রিফাত রূপগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বছরের ৩০ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন ভোররাতে স্থানীয় একটি কারখানার পরিত্যক্ত ঘর থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, রিফাত নিখোঁজ হওয়ার পর তার মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ রিফাতের আত্মীয় ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মানিক মিয়া জানান, পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকে মাসুম ছিলেন রিফাতের চাচা—তিনি শিশুটির বাবার ফুফাতো ভাই।

দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহ পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে। তবে তিনি রূপগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত রিফাতও পরিবারের সঙ্গে ওই এলাকাতেই থাকত এবং তাদের গ্রামের বাড়িও একই এলাকায়।

ঘটনার পর মাসুম বিল্লাহ পিরোজপুরের একটি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সোমবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রূপগঞ্জে মুক্তিপণের জন্য ভাতিজাকে অপহরণের পর হত্যা, চাচার যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রূপগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত অপহরণ ও হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মাসুম বিল্লাহ (২৯) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ একেএম রকিবুল হাসানের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মানিক মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রিফাত রূপগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বছরের ৩০ মার্চ দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন ভোররাতে স্থানীয় একটি কারখানার পরিত্যক্ত ঘর থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, রিফাত নিখোঁজ হওয়ার পর তার মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ রিফাতের আত্মীয় ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মানিক মিয়া জানান, পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকে মাসুম ছিলেন রিফাতের চাচা—তিনি শিশুটির বাবার ফুফাতো ভাই।

দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহ পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে। তবে তিনি রূপগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত রিফাতও পরিবারের সঙ্গে ওই এলাকাতেই থাকত এবং তাদের গ্রামের বাড়িও একই এলাকায়।

ঘটনার পর মাসুম বিল্লাহ পিরোজপুরের একটি থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সোমবার বিকেলে দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুম বিল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ